কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তিনটি রেকারের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা পর মহাসড়ক থেকে কাভার্ড ভ্যানটি সরিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি বড় হওয়ায় সেটি সরাতে সময় লেগেছে। এছাড়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি আন্দোলনের কারণে রেকার পৌঁছাতেও বিলম্ব হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, হাইওয়ে পুলিশের গাড়িটি সরাতে বিলম্ব হওয়ার কারণেই এমন তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, একটি গাড়ি সরাতে চার ঘণ্টা সময় লাগা অদক্ষতার পরিচায়ক।
ইকোনো পরিবহনের চালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তিনি সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে বিশ্বরোড এলাকায় আটকে আছেন। দুর্ঘটনাই এই ভোগান্তির কারণ।
অপরদিকে, কাভার্ড ভ্যান চালক মিলন ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, পাঁচ ঘণ্টা ধরে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় যানজটে আটকে আছেন। কখন চাঁদপুরে পৌঁছাবেন, তা তিনি বলতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ।
নিহতরা হলেন— কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের উমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নূরজাহান (৬০), তাদের বড় ছেলে ব্যাংকার আবুল হাসেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। নিহত চারজনই একই পরিবারের বাবা, মা এবং তাদের দুই ছেলে।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। কাভার্ড ভ্যানটি সরানোর পর দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

