অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। আসামি গ্রেপ্তারে কেউ আশ্রয় বা সহায়তা দিলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান, বিশেষ করে নগরের খুলশী এলাকায় অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। এ সময় চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্যের আত্মীয়ের নাম আসার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কেউ আশ্রয় বা সহায়তা দিলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি খুলনায় ছিনতাইকারীদের কবলে এক পুলিশ সদস্য পড়ার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। এ ঘটনার পর রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চান তারা।
এ ছাড়া অপরাধী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়েও জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযানকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকার ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা ও শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো অপরাধ তদন্ত এবং প্রতিরোধে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এ সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সিআইডির পরীক্ষাগার ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে।
‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিয়নাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাবিলিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রকল্পের আওতায় সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি নির্মিত হয়েছে। এতে সহায়তা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কয়কা)।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (উন্নয়ন) সরদার নূরুল আমিন, কয়কা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

