চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দুজন এবং চোলাইমদ সেবনের অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শনিবার উপজেলার কুমিরা ও বারৈয়াঢালা এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, কুমিরা ইউনিয়নে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দুজনকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। এ সময় জব্দ করা মাদকদ্রব্য বিনষ্ট করা হয়।
অন্যদিকে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে চোলাইমদ সেবনের অভিযোগে আরও দুজনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের একজনকে সাতদিন এবং অপরজনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। তাদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।
সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকসেবীদের আটক করে। পরে আইনগত বিধান অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে উপজেলার দুই এলাকায় মাদক সেবনের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেবনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহকারীদেরও শনাক্ত করা প্রয়োজন।
তাদের অভিযোগ, কোনো এলাকায় মাদক সেবনের প্রবণতা তৈরি হলে এর পেছনে সরবরাহব্যবস্থা সক্রিয় থাকার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু সেবনকারী আটকের মধ্যে অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে মাদক কোথা থেকে আসছে, কারা সরবরাহ করছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো দরকার।
সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত অভিযান ও তথ্যভিত্তিক নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য দ্রুত যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে মাদকসেবনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ধারাবাহিক নজরদারি এবং সরবরাহচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

