বিদ্যুতের জন্য অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করতে চাই, যেখানে বিদ্যুতের জন্য অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। তারা বিদ্যুৎ দিলে আমরা বিদ্যুৎ পাব, তারা না দিলে আমাদের বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে- এমন পরিস্থিতি আমরা চাই না। আমরা নিজেরাই যেন নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
রোববার রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার মাধবপুর শ্রী শ্রী কালীমাতা মন্দির কমিটির আয়োজনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বিদ্যুতের সমস্যা সারা বাংলাদেশেই রয়েছে। গ্যাসের সমস্যাও রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই হুট করে সব সমস্যার সমাধান হবে না। তবে আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
বাড়ি বাড়ি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি সোলার প্রজেক্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে মানুষ নিজের প্রয়োজনের বিদ্যুৎ নিজেই ব্যবহার করতে পারবেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এভাবে সরকার নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী চার-পাঁচ বছর পর বাংলাদেশে বিদ্যুতের আর সমস্যা থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে লোডশেডিং কমাতে চার-পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং কমিয়ে আনা হবে। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন।
দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা হঠাৎ করে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার এমনভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের জন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়।
মতবিনিময় সভায় পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্তানদের কাছে বাবা-মায়ের বেশি কিছু চাওয়ার থাকে না। বাবা-মা শুধু দিতে জানেন, আর সন্তানরা নিতে জানে। ভালোবাসা সাধারণত নিম্নগামী- উপর থেকে নিচের দিকে আসে। একজন বাবা-মা তার সন্তানকে যতটা ভালোবাসেন, সন্তান হয়তো তাকে ততটা ভালোবাসতে পারে না। বরং সন্তান তার নিজের সন্তানকে আরও বেশি ভালোবাসে। এটি প্রকৃতির নিয়ম।
দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও না-পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশের মানুষের মধ্যে শুধু না পাওয়ার বিষয়টিই তৈরি হয়েছে। আমরা পেয়েছি খুবই কম। এখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় কোনো বরাদ্দের ক্ষেত্রে যদি একটি মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে একটি মন্দিরেও বরাদ্দ দেয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

