চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ৯ বছরের শিশু আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও লাশ গুমের আলোচিত মামলার প্রধান আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া অন্য একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরেকটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী।
দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় তার মা পাহাড়তলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর পাহাড়তলীর মুরগির ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দেয় মোহাম্মদ রুবেল।
লাশ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ নালিশি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। এর পরও ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

