কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে একাধিক স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট দারোগাহাট এলাকা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতে বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। ফলে চট্টগ্রামমুখী লেনে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে গেলে মুহূর্তেই গাছ ভেঙে মহাসড়কের ওপর পড়ে। এতে শত শত যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে এবং কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
কুমিরা হাইওয়ে থানার কর্মকর্তা এসআই মাহবুব জানান, দুপুরের দিকে ছোট দারোগাহাট এলাকায় একটি বড় গাছ সড়কের ওপর পড়ে গেলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছ অপসারণের কাজ শুরু করে। একই সময়ে পৌরসভার সহকারী ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকাতেও আরেকটি গাছ পড়ে।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, দুটি স্থানে বড় গাছ পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমাদের দল দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় গাছগুলো সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ঝড়ের প্রভাবে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজুল হক জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ চালিয়ে রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, কালবৈশাখী মৌসুমে প্রতিবছরই এ ধরনের ঝড়ের কারণে মহাসড়কে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা ও যানজটের সৃষ্টি হয়। তারা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ আগাম চিহ্নিত করে অপসারণের দাবি জানান।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া প্রদানের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ কমানো যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

