হাজতের গ্রিলে ঝুলছিল দুর্জয় চৌধুরীর লাশ

হাজতের গ্রিলে ঝুলছিল দুর্জয় চৌধুরীর লাশ

কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতের দরজার গ্রিলে রডের সাথে গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলছিল এক স্কুল কর্মচারীর লাশ। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেন।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোররাত ৪টার চকরিয়া থানা হাজতের একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সকাল ১০টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে নিহত দুর্জয় চৌধুরী (২৫) -র লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. জসীম উদ্দিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত দুর্জয় চৌধুরী চকরিয়া পেরৗসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী হিন্দুপাড়া এলাকার কমল চৌধুরীর ছেলে। তিনি চকরিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চকরিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌর সদরের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী দুর্জয় চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম।

ওই সময় প্রধান শিক্ষকসহ আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযুক্ত দূর্জয় চৌধুরীকে ধরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রপায়ন দেব তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ রাত ১১টার দিকে একটি জিডি করে দূর্জয় চৌধুরীকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে থানা হাজতে আটক রাখে। পরে থানার সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১টা ২৭ মিনিটের দিকে দূর্জয় চৌধুরীকে থানা হাজতের ভেতর হাঁটতে দেখা গেলেও ভোররাত ৪টার দিকে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় পুলিশ।

নিহত দূর্জয় চৌধুরীর পিতা কমল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাকে বিদ্যালয়ে আটকে রাখেন প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানম। পরে ওই দিন রাতে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দূর্জয় চৌধুরীকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দূর্জয় চৌধুরীকে থানা হাজতে আটক রাখে। শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে থানা হাজতের দরজার গ্রিলের সাথে শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় আমার ছেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত আমি এএসপি সার্কেল স্যারের সাথে চকরিয়ার সাহারবিল ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নে অভিযানে ছিলাম। সকালে থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর শুক্রবার সকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাস উপস্থিত ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, চকরিয়া থানা হাজত থেকে দূর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব এ লাশটি উদ্ধার করেন। এ সময় তার উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, থানা হাজতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন