কুমিল্লা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে আধুনিক ধান কাটার যন্ত্রটি পরিত্যক্ত খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে । ফসলি জমির ধান অতিরিক্ত মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে কাটনো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও এখানকার উৎপাদিত ধানের বিরাট একটা অংশ অফিসার-কর্মচারীদের ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। শুধু ধান কাটার পেছনে লাখ লাখ টাকার গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের। এতে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়েছে।
সরেজমিন কুমিল্লা সদর উপজেলার শাসনগাছা এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র কুমিল্লার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে শ্রমিক দিয়ে কাটা হচ্ছে ধান। সেখানে কথা হয় ঠাকুরগাঁও থেকে আসা পাঁচ শ্রমিকের সঙ্গে । তারা জানান, দালালের মাধ্যমে প্রায় এক মাস হয়েছে এখানে ধান কাটার। প্রতিদিন ৯০০-১০০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন। সূত্র জানায়, ২২ মে কুমিল্লায় শ্রমিকের মূল্য ছিল সাত-আটশ টাকা, সঙ্গে দুই বেলা খাবার। একইভাবে ১৫-২০ দিন আগে ছিল এক হাজার সাতশ হতে এক হাজার আটশ টাকা। প্রতিটি শ্রমিকের প্রতিদিনের বাজার মূল্যের সঙ্গে দুই বেলা খাবার। এতে করে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে ।
কোনো নজরদারি ছাড়াই শ্রমিকরা ইচ্ছেমতো ধান কাটছে। এদিকে অধিক বাজার মূল্যের পাশাপাশি সরকারি যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও খোলা আকাশের নিচে ধান কাটার অত্যাধুনিক যন্ত্র ফেলে রাখার বিষয়টিও প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে একটি হারভেস্টার দিয়ে প্রতিদিন একরের পর একর জমির ধান কাটা সম্ভব, সেখানে সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানা গেছে। এছাড়াও প্রয়োজনের অতিরিক্ত দেখিয়ে ধান কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের নামে বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে কুমিল্লা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কাজের বাইরে বীজ না হওয়া উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ ধান অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ভাগ-বাঁটোয়ারার অভিযোগও উঠেছে। অফিসের একটি সূত্রমতে, যেসব ধান বীজ হবে না, সেসব ধান অফিসের স্টাফ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে প্রতিকেজি ১০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। এছাড়াও এখানে ৫০ জন স্টাফ কর্মচারী রয়েছেন। তারা গড়ে এক দেড় মণ করে ধান জনপ্রতি ভাগে পাচ্ছেন। গবেষণা মাঠে উৎপাদিত ধান থেকে চাল সংগ্রহ করে সেগুলো অফিসারদের জন্য সংরক্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগে প্রকাশ।
বাজারে শ্রমিকের উচ্চমূল্য সত্ত্বেও হারভেস্টার ব্যবহার না করার কারণ জানতে চাইলে খামার ব্যবস্থাপক জহিরুল হক শামীম বলেন, এখানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় ৬৭ একর জমি রয়েছে। আমাদের নিজস্ব ধান কাটার যন্ত্রটি প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট। এ অবস্থায় ঢাকা থেকে হারভেস্টার এনে কিছু ধান কাটা হয়েছে। সেটা আবার চলে গেছে। এছাড়াও এখন জমিতে পানি ।
এজন্য শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


হৃদয়ে রক্তক্ষরণ : নৈতিক বিপর্যয় ও আত্মজিজ্ঞাসা