নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধের জেরে মোমেন মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর প্রতিপক্ষ ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলা থেকে নারী ও শিশুরাও রেহাই পায়নি। এমনকি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত ২ আগস্ট সকালে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি এলাকার সরকারবাড়িতে মোমেন গ্রুপ ও পূর্বপাড়ার ফরিদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়। এতে মোমেন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ভাই আমিন মিয়া বাদী হয়ে ৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে বলে দাবি স্থানীয়দের। এরপর থেকে কয়েক দিন ধরে মোমেন চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ফরিদ সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তার বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে নিত্যব্যবহার্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে তারা সবকিছু ভেঙে ফেলেছে। পায়ের স্যান্ডেল ছাড়া বাড়ি থেকে আর কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি।
হেপি নামে আরেক নারী অভিযোগ করেন, তিনি বাড়িতে থাকা অবস্থায় কয়েকজন হঠাৎ ঘরে প্রবেশ করেন। তারা নগদ টাকা ও মালামাল লুট করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করে হাতে আঘাত করা হয়। এতে তার হাত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হামলার সময় আমজাদ মিয়াসহ বেশ কয়েকটি দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হয়েছে। একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে দুটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ছাগল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় ১৭১টি বসতঘর ও ১০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত হামলা-লুটপাট বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সওদাগরকান্দি গ্রামের লঞ্চঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক ককটেল, একটি একনলা বন্দুকসহ সংঘর্ষে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় চরাঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে দুই পক্ষের বিরোধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান চালানোর পর রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


