বহু অপকর্মের হোতা শ্রমিক লীগ নেতা শাহাব জেলহাজতে

বহু অপকর্মের হোতা শ্রমিক লীগ নেতা শাহাব জেলহাজতে

বহু অপকর্মের হোতা সীতাকুণ্ড উপজেলার শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার শাহাবউদ্দিনকে র‍্যাব সেভেন হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার করে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জায়গা দখলসহ নানান অপকর্মের হোতা শ্রমিক লীগের এই নেতা। তার বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীর হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার শাহাবুদ্দিনকে সীতাকুন্ড থানায় হস্তান্তর করলে পুলিশ যুবদলের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

শাহাবউদ্দিন সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বিএনপি জামায়াতসহ তার প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিতেন। শ্রমিক লীগের এ নেতার স্ত্রী পুলিশের এএসআই পদে চট্টগ্রামে একটি থানায় কর্মরত আছেন। তার স্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি।

গত ৫ জুলাই সরকার পতনের পরেও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের জাহাঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান ও শ্রমিক লীগের প্রভাবশালী নেতা শাহাবউদ্দিনসহ ৯ জন মেম্বার স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে ম্যানেজ করে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে তাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের এ নেতারা বসতবাড়িতে অবস্থান করে পরিষদে অফিসও করেছিলেন।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালামত উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং শাহাবউদ্দিনসহ ৯ জন মেম্বার বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অবৈধ পন্থায় শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির একজন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির অপর একজন সিনিয়র নেতাকে কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে তাদের ছত্রছায়ায় ৫ অগস্ট জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেম্বার শাহাবউদ্দিনসহ ৯ জন মেম্বার ও চেয়ারম্যান এলাকায় অবস্থান করে ইউনিয়ন পরিষদে অফিসও করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী লীগের এ নেতারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যানের সাগর থেকে বালু তোলার কয়েকটি ড্রেজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমানে ওই এলাকার বিএনপির দুই নেতা পরিচালনা করে আসছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাক্তার কমল কদর আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘ বছর যাবত মেম্বার শাহাবউদ্দিনের বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে তার গ্রেপ্তারের সংবাদে এলাকায় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সীতাকুণ্ড থানার এসআই বেলাল হোসেন বলেন, শ্রমিক লীগের নেতা শাহাবউদ্দিন যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনার এজাহারভুক্ত আসামি। র‍্যাব সেভেন হাটহাজারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন