লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার আরাফাত হোসেন শিহাবের শরীরে ৪৭টি বুলেট বিদ্ধ হওয়ার পরও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি আহতের তালিকায়। তার দেহে এখনো রয়ে গেছে দুটি বুলেট। ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি তিনি। ফলে কোনো ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা বা উন্নত চিকিৎসার সুযোগও পাননি। আরাফাত হোসেন শিহাব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মাহাবুব হাক্কানীর ছেলে।
শিহাব জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার শাহ আলী থানার সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার পিঠ, ঘাড় ও কোমরে মোট ৪৭টি বুলেটের স্প্লিন্টার ও ছররা আঘাত করে। একই ঘটনায় তার বড় ভাই, ঢাকা সায়েন্স ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী হাসানাতও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। হাসানাত সুস্থ হয়ে উঠলেও আরাফাতের ঘাড় ও কোমরে এখনো দুটি বুলেট রয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থাকা বুলেট অপসারণের চেষ্টা করলে স্থায়ী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আরাফাত জানান, আমি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। ঘাড়ের পেছনে প্রায়ই ঝিনঝিন অনুভূতি হয়। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরাফাতের মা মোহছেনা বেগম জানান, ছেলেদের লেখাপড়ার জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস শুরু করি। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করব। কিন্তু আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সব আশায় গুড়েবালি। সিহাবের এইচএসসি পরীক্ষার ফলও আশানুরূপ হয়নি। এখন চিকিৎসার খরচ বহন করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আহত হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। তালিকাভুক্ত হলে অন্তত ছেলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। তার মা আরো জানান, শিহাব বর্তমানে অনার্সে অধ্যয়নরত। তার বাবা মাহাবুব হাক্কানী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
পরিবারের দাবি, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত আরাফাতকে দ্রুত সরকারি আহতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

