নোয়াখালীর কবিরহাটে নিখোঁজের এক দিন পর এক যুবদলনেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আলীপুর গ্রামের একটি ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত আজাদ হোসেন (৩৪) একই গ্রামের হানিফ মিয়ার বাড়ির মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজাদ হোসেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর থেকে তারা দুজন পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা।
কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন, আজাদ ওই এলাকার একটি ক্লাবঘরে ব্যবসা করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তিনি দোকান থেকে বাড়িতে যান। রাত ১টার দিকে চাচাতো ভাই ফারুক আজাদকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আজাদ আর বাড়িতে ফেরেননি।
তিনি আরো বলেন, নিহতের স্বজনদের দাবি, ফারুক ও নিজাম দুই ভাই এবং তারা আজাদের চাচাতো ভাই। শুক্রবার বিকেলে ডোবা থেকে আজাদের লাশ উদ্ধারের পর ফারুক ও নিজাম এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কবিরহাট পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বোন লাভলী বেগম শনিবার কবিরহাট থানায় ফারুক ও নিজামকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

