কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ার আলোচিত শাহীন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে অন্য ব্যবসায়ীর ৩১টি দেশীয় জাতের গরু ও একটি ছাগল জব্দ করেছে যৌথবাহিনীর অভিযানে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নাইক্ষ্যংছড়িতে কর্মরত ১১ ব্যাটালিয়ন বিজিবি চারটি ডাম্পারে ওই গরু তুলে নেয়ার পর সেই গরু ও ছাগল ‘গায়েব’ করে দেয়ারও অভিযোগ তুলেছেন গর্জনিয়ার খামারি মো. নুরুল আবছার।
তার দাবি, তিনি এলাকায় না থাকা অবস্থায় কোন অজুহাত ছাড়াই খামারের সব গরু নিয়ে যায় বিজিবি সদস্যরা। যদিও বিজিবি এই অভিযোগ অস্বীকার করে ‘চোরাই গরু’ হিসেবে সব গরু ও ছাগল কাস্টমসকে হস্তান্তর করার দাবি করেছে।
সূত্র মতে, এবারের কুরবানির ঈদের দু’দিন আগে ৫ জুন আলোচিত শাহীন ডাকাতকে ধরতে গর্জনিয়ায় যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব। ওই অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও দু’সহযোগীসহ ধরা পড়েন শাহীনুল ইসলাম শাহীন। ওই অভিযান কালে বিজিবি সদস্যরা ডাকাত শাহীন ও তার বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন খামার থেকে শতাধিক গরু নিয়ে যায়।
গর্জনিয়ার বোমাংখিল এলাকার বাসিন্দা এবং পোল্ট্রি ও এগ্রো খামারি মো. নুরুল আবছারের অভিযোগ, ওই অভিযানে তার এগ্রো ফার্ম থেকে ‘দেশী শাহী ওয়ার্ল্ড’ জাতের ৩১টি গরু ও একটি ছাগল নিয়ে যায় ১১ বাজিবির সদস্যরা। চারটি ডাম্পারে ভরে প্রকাশ্যে গরু নিয়ে যাওয়া হলেও ডাকাত শাহীনের কোন মামলা কিংবা অন্য কোনো মামলায় এসব গরু ‘জব্দ তালিকা’য় দেখানো হয়নি। এসব গরু কী করা হয়েছে তাও তিনি জানতে পারেননি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কেরানিহাট পশু বিক্রির হাট থেকে গত ৭ মে ৩১টি ‘দেশীয় শাহী ওয়াল’ জাতের গরু কিনে আনি। সেগুলো আমার এগ্রো ফার্মে মাসাধিককাল ধরে লালন-পালন করে বড় করে তুলছিলাম। কিন্তু সেই গরু নিয়ে গেছে বিজিবি।
নুরুল আবছার বলেন, আমার খামার থেকে নিয়ে যাওয়া গরু উদ্ধারের জন্য আমি কক্সবাজার ও বান্দরবানের আদালতে বিজিবি কোনো জব্দ তালিকা দিয়েছে কিনা যাচাই করেছি। কিন্তু নানাভাবে খোঁজ করেও কোথাও আমার গরু গুলো জব্দের কোনো তালিকা পাইনি।
তিনি প্রশ্ন তুলেন, তাহলে কী আমার গরু গুলো ‘গায়েব’ করে দেয়া হয়েছে?
আপনি কেন বাজিবির কাছে যাননি? এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল আবছার বলেন, আমি সাধারণ মানুষ। বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে গরুর খোঁজ নেয়ার মতো অবস্থা আমার নাই। শুনেছি, সেখানে গেলে আমাকেই নাকি আটকে ফেলবে! তাই আদালতে জব্দ তালিকার খোঁজ করেছি।
নুরুল আবছারের এগ্রো ফার্মের কর্মচারি নুরুল ইসলাম জানান, আমার সামনেই খামারের সব গরু নিয়ে গেছে বিজিবি। এসব গরু আমিই দেখাশোনা করতাম।
ওই এগ্রো ফার্মের প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীন বলেন, নুরুল আবছারের গরুগুলো মিয়ানমারের কিংবা চোরাই গরু নয়। ওগুলো আমিসহ গিয়ে কেরানীহাট থেকে কিনে এনেছি। চাইলে ওখানে গিয়ে কার কাছ থেকে গরুগুলো কেনা হয়েছে সেগুলোও দেখাতে পারবো। তিনি বলেন, বিজিবি চোরাই গরু ধরতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত খামারের গরু নিয়ে যেতে পারে না।
এ ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়িতে দায়িত্বরত বাজিবির ১১ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল কফিল উদ্দিন কায়েছ আমার দেশকে বলেন, ওইদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গরু জব্দ করা হয়েছে। সবগুলো গরুই নিলামের জন্য কাস্টমসকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শাহীন ডাকাতকে গ্রেপ্তারে অভিযান কালে তার সাথে সম্পৃক্ত গরু চোরাকারবারিদের গরু জব্দ করা হয়। কোনো স্থানীয় গরু জব্দ করা হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যিনি অভিযোগ তুলছেন তিনি তো বাজিবির সাথে যোগাযোগ করেননি। কারো অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কামারের কাছে গেলে তো সমাধান হবে না! মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে উখিয়ার বালুখালী কাস্টমসের গুদাম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ১১ বিজিবি বেশ কয়েকবার জব্দ করা গরুর তালিকা জমা দিয়েছে।
সেখানে কোনগুলো কার গরু সেটা চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। জব্দ তালিকায় কারো নাম লেখা থাকে না, শুধু লেখা থাকে বাজিবির কোনক্যাম্প গরু গুলো জব্দ করেছে।
তিনি বলেন, কাস্টমসের নিজস্ব কোন গুদাম নেই। তাই জব্দ তালিকা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে গিয়ে গরু নিলামে বিক্রি করা হয়। জুন মাসেও কয়েক দফা নিলাম করা হয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট করে কোন সংখ্যা জানাতে পারেননি এই কাস্টমস কর্মকর্তা।
এদিকে খামারি নুরুল আবছার জানিয়েছেন, বিজিবি নিয়ে যাওয়া গরু তার খামারে পালিত দেশীয় জাতের গরু। মিয়ানমারের চোরাই গরুর সাথে এই গরুর কোনো সম্পর্ক নাই। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আই সি রাজেশ বড়ুয়া বিষয় টি নিয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, এছাড়া স্থানীয় গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড়ের সদস্য মহি উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খামারী নুরুল আবছারের গরু চট্টগ্রাম কেরানি হাট থেকে ক্রয় করা দেশীয় জাতের গরু। বার্মিজ চোরাই পথে নিয়ে আসা অবৈধ গরু নয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

