কক্সবাজার শহরের আলোচিত আবাসন প্রকল্প 'উত্তরণ গৃহায়ন সমবায় সমিতি'র আবাসিক এলাকা থেকে রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় ঘাতক তার স্ত্রীকেও ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বীরেল চাকমাকে (৫৪) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুই চাকমা পরিবার পাশাপাশি বাস করতেন। তাদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহতের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক হাজতে আছে।
তিনি বলেন, ঘাতক মদ্যপ ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত থাকায় ওই নারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, চাকমা ওই নারী আমাদের পাশে ভাড়া থাকেন। হঠাৎ তার চিৎকার শুনে আমরা বের হই। দেখি সে রক্তাক্ত এবং তার স্বামীর লাশ পড়ে আছে। এ সময় একজনকে স্থানীয়রা ধরে ফেলে পুলিশে দেয়।
পুলিশ সূত্রমতে, কিছু দিন আগে পরিবার দুটি পার্বত্য রাঙামাটি থেকে কক্সবাজার আসে। নিহত রঞ্জন চাকমা ও ঘাতক বীরেল চাকমা স্থানীয় সুপারি বাগানে মজুরের কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যখন জবাই করা লাশটি উদ্ধার করা হচ্ছিল তখন স্বামী রঞ্জন চাকমাকে জড়িয়ে কান্না করছিলেন হতভাগা ওই স্ত্রী। তার স্বামীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তার।
তাদের মতে, হত্যা করে পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় কয়েকজন হাতে রক্ত দেখে ঘাতককে ধরে ফেলেন।
সূত্র বলছে, তারা শনিবার রাতে একসাথে মদপান করছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় পাশের আরেক কক্ষে বীরেল চাকমা রঞ্জনের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে স্ত্রী সেখান থেকে দৌড়ে এসে স্বামী রঞ্জনকে বিষয়টি জানালে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রঞ্জনকে জবাই করে বীরেল চাকমা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

