চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনকে (৪৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে থাকা কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ—এমন তথ্য মিলেছে গ্রেপ্তার হওয়া সহযোগী নাজিম উদ্দিন ওরফে বাইট্টা নাজিমের (৫২) জবানবন্দিতে।
বুধবার চট্টগ্রাম আদালতে ১৬৪ ধারায় নাজিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে খুন, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ১০ জানুয়ারি বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার দিঘিরপাড়ে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে জামালকে হত্যা করে তিনজন অস্ত্রধারী। গুলিতে তার সঙ্গে থাকা নাছির উদ্দিন (৪২) গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধার করে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুলি ছোড়ার সময় জামালের মোটরসাইকেলে থাকা নাজিমই ছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষ সহযোগী। হত্যার পর তিনিও মোটরসাইকেল নিয়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পালিয়ে যান। র্যাব–৭-এর সহায়তায় সোমবার তাকে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম জানান, চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ক্রয়সংক্রান্ত টেন্ডার নিয়ে জামালের সঙ্গে বড় সাজ্জাদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। বিদেশে থাকা বড় সাজ্জাদ তার সহযোগীদের মাধ্যমে জামালকে হত্যার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনারদিন নাজিম ফোন করে সাজ্জাদ গ্রুপের তিনজন অস্ত্রধারীকে দিঘিরপাড় এলাকায় ডেকে আনেন। তারা এসে কাছ থেকে গুলি চালিয়ে জামালকে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান।
নাজিম পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর জানায়, হত্যাকারীদের পালানোর সুবিধা দিতে তিনিই জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান এবং রাতেই সেটি নিজের বাড়ি লেলাং কাবিল মিস্ত্রী বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। তার দেখানো মতে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

