কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার কার্যক্রম শুরুর প্রায় পাঁচ বছর অতিবাহিত হতে চললেও এখনো কোনো প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ভাড়া ভবনে কয়েকটি অফিসের কার্যক্রম চললেও অধিকাংশ সেবা আগের কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। এমতবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে অবকাঠামো স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।
দীর্ঘদিন থেকে দেশে লবণের চাহিদা মেটানোর সর্ববৃহৎ লবণশিল্প এলাকা ইসলামপুর, উপকূলজুড়ে চিংড়ি ঘের, পার্বত্য এলাকা ও সৈকত নগরী কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার ও পাহাড় সমতলবেষ্টিত বৃহত্তর ঈদগাঁওকে পৃথক উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি ছিল। এ গুরুত্ব বিবেচনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নব্বইয়ের দশকে ঈদগাঁও সফর করেন। তখন ঈদগাঁও হাই স্কুলের জনসভায় জনগণের এ দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণ করে ঈদগাঁওকে উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামকরণে পোকখালী জিয়া খালের অবস্থানও এ উপজেলায়।
বিগত আওয়ামী সরকারের সময় প্রায় পাঁচ বছর আগে কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে পৃথক হয়ে পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে ঈদগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ভাড়া করা ভবনে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলায় কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ সেবা আগের কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে নিতে হচ্ছে অত্র উপজেলাবাসীকে। এতে পৃথক উপজেলা হওয়ার পরও জনভোগান্তির অন্ত নেই।
বিশেষ করে উপজেলার প্রশাসনিক ভবন ও অধিকাংশ দপ্তরের স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে না ওঠায় অত্র উপজেলার বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখানে পোস্টিং নিতে কিংবা থাকতে অগ্রহী হন না। ভাড়া করা ভবনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং হাতেগোনা কয়েকটি দপ্তর ছাড়া অধিকাংশ দপ্তর এখনো কক্সবাজার সদর উপজেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্বে এখানে পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে উপজেলার জনগণ এখনো আগের মতো অনেকটা সেবাবঞ্চিত।
উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অফিস স্থাপন হয়নি বিধায় এখনো পৃথক সহকারী কমিশনার (ভূমি) অত্র উপজেলার জন্য পদায়ন হয়নি। উপজেলার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আগের উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে গিয়ে সেখানকার অফিসে অত্র উপজেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া পূর্বনির্ধারিত জায়গা থাকলেও এখনো অদৃশ্য কারণে গড়ে ওঠেনি উপজেলার প্রশাসনিক স্থাপনা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ভূমি অফিস, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, উপজেলা ক্যাটাগরিভিত্তিক স্কুল-কলেজ জাতীয়করণসহ জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক অফিসের কার্যক্রম। এজন্য উপজেলা বাস্ততবায়নের পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও শূন্য অবকাঠামো ও জনবলের অভাবে উপজেলার প্রকৃত স্বাদ ও সেবার সুফল এলাকাবাসী পাচ্ছে না।
সংসদের চলতি অধিবেশনে এ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জরুরি ভিত্তিতে এসব অবকাঠামো স্থাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
ঈদগাঁও উপজেলার জনগণ কক্সবাজার সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার থেকে সড়কপথে ঈদগাঁও উপজেলার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডে কয়েক মিনিটের জন্য হলেও উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবিগুলো জানতে ও শুনতে সময় দেওয়ার আকুতি প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও উপজেলা জামায়াতের আমির মওলানা ছলিম উল্লাহ জিহাদী দ্রততম সময়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর সুনজর কামনা করেছেন।
ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী, জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসাইন এবং ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) নিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কার্যক্রম প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হলেও এখনো স্থায়ী কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই জরুরি ভিত্তিতে সব অফিস চালু এবং স্থাপনা নির্মাণে কক্সবাজার সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা কামনা করেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

