কুমিল্লা রেলওয়ের পরিত্যক্ত বাসাবাড়ি এখন বহিরাগতদের দখলে

মো. শাহ্ আলম শফি, কুমিল্লা (দক্ষিণ)

কুমিল্লা রেলওয়ের পরিত্যক্ত বাসাবাড়ি এখন বহিরাগতদের দখলে
কুমিল্লা রেলওয়ের ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ বাসাবাড়ি। ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত শতাধিক কর্মচারীর বসবাসের আবাসিক বাসভবনগুলো সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় পরিত্যক্ত বাসাগুলো এখন বহিরাগতদের দখলে চলে গেছে । নিম্ন আয়ের মানুষ কম টাকা ভাড়ায় পরিবার নিয়ে থাকছেন। আবার কোনো কোনো ঘর পরিত্যক্ত হওয়ায়, বহিরাগতরা থাকছেন। ময়লা-আবর্জনায় কলোনির রাস্তা-ঘাটের চিহ্ন মুছে গেছে। বছরের পর বছর ধরে এই অব্যবস্থাপনায় চলে আসলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নীরব রয়েছে।

জানা গেছে, দেশের অন্যতম প্রাচীন কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন । ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য সর্বমোট প্রায় ১০০ ইউনিটের বাসা নির্মাণ করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আধুনিক যাতায়াতসহ পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সুবিধা থাকা, এই কলোনিতে এক সময় বসবাসের নিরাপদ পরিবেশ ছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কলোনির পরিত্যক্ত জায়গাগুলো একশ্রেণির লোক লিজ নিয়ে, সেখানে বস্তি গড়ে তোলে। পাশাপাশি মাদকসেবী, চোরাকারবারিসহ অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে গড়ে উঠে কলোনী। এতে করে দূরদূরান্তের জেলা-উপজেলা থেকে চাকরি করতে আসা কর্মচারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকারি বরাদ্দের বাসাগুলোতে বসবাস করা ছেড়ে দেয়।

এ জন্য অনেক কর্মচারী কম টাকায় এসব বাসা বহিরাহতদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। এদিকে সরেজমিনে ঘুরে বহু বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া হিসেবে পাওয়া গেলেও, অনেক বাসা পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেসব বাসায় বহিরাগতদের পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে দেখা গেছে । এসব বাসায় মাদকাসক্ত, ভবঘুরেদেরও দেখা গেছে। কলোনির ঘরগুলোর বাইরে টিন-বাঁশের বেড়া, কাপড় টানিয়ে ছাপরা বানিয়ে রান্না-বান্না করতে দেখা গেছে দরিদ্র মানুষদের। কলোনির রাস্তায় উপচেপড়া ড্রেনের পানিতে সয়লাব, ময়লা-আবর্জনায় একাকার রাস্তাগুলো। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট ড্রেন, অপরিচ্ছন্ন ঘরগুলোর আশপাশ। বসবাসের ঘরগুলোর দরজা-জানালা খসে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। বসবাসের বাসায় ভাঙ্গারির মালামাল সংরক্ষণ, রাইজারবিহীন গ্যাস সংযোগ, বিদ্যুতের যথেচ্ছ ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আক্রাম হোসেন বলেন, স্থাপনাগুলো অনেক পুরোনো । সামান্য বৃষ্টি হলেই কোয়ার্টারের ভেতরে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, বসবাসের অনুপযোগী, কোয়ার্টার বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই, কেউ দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...