সুনামগঞ্জে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

সুনামগঞ্জে ১৭ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ

প্রচণ্ড গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের জনজীবন। শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুতের দেখা মিললেও গ্রামে দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুতের ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন ভুক্তভোগীরা। ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে মিছিলও করেছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ঘণ্টাই থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকার পরও মাস শেষে পুরো বিল ধরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি আসছে ভুতুড়ে বিলও।

তাহিরপুরের মশিউর রহমান বলেন, গ্রামে রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩টায় চলে যায়। দিনে সকালে থাকে না। দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর যায়-আসে। সন্ধ্যার পর তো দেখাই মেলে না। রাতে গরমে ছেলে-মেয়েরা ঘুমাতে পারে না।

লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

সদর উপজেলার বানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। বাচ্চারা স্কুলে এসে গরমে ঘামছে। শিক্ষকদের যেমন পড়াতে মন নেই, বাচ্চারাও মনোযোগ দিতে পারছে না। দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষাক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রিকশাচালক লাল মিয়া বলেন, আমি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাই। প্রতিদিন রাতে চার্জ দিতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় রিকশায় চার্জ নেই, আয়ও নেই। এই অবস্থা চললে সংসার চালাবো কিভাবে?

সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) তাপস কুমার পাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। এটি জাতীয় সমস্যা। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জে আমাদের আওতায় প্রতিদিন ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পাচ্ছি মাত্র সাড়ে ৮ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশও না। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন