কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম রত্নাখালপাড়া এলাকায় একই পরিবারের ছয় সদস্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য, চিকিৎসার অভাব ও সামাজিক অবহেলার মধ্যে দিন কাটছে পরিবারটির। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার এই সমস্যা পরিবারটির একাধিক প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারটির দাবি, তাদেরকে সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অধিকাংশ সদস্য জন্মগতভাবে কিংবা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য না থাকায়, অভাব-অনটন যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারটির সদস্যদের অভিযোগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সামান্য ভাতা পেলেও তা দিয়ে মাত্র এক মাসের খরচ চলে। বাকি সময় ধারদেনা ও মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় তাদের। ঈদের সময় নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্যও নেই। এমনকি রমজান মাসে অনেকদিন শুধু পানি দিয়ে ইফতার করতে হয়েছে বলেও জানান তারা। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে গেলেও এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যরা হলেন—আরমান (২৫), জিহাদ (২৩), মাইমুন হাসান (১৯), আফিফা জান্নাত রিফা (৮), জামাল উদ্দিন (৫৫), সমাজসেবা বেগম ও ছমুদা গেমন (৯০)। এছাড়া এর আগে একই পরিবারের আরো দুই সদস্য—জিয়াছমি আক্তার ও ইব্রাহিম মারা গেছেন। স্বজনদের দাবি, তারাও একই ধরনের সমস্যায় ভুগছিলেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরমান বলেন, বর্তমানে আমাদের পরিবারে দাদি, বাবা, ভাই-বোনসহ ছয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছেন। এর আগে আরো দুজন মারা গেছেন। সমাজসেবা থেকে যে ভাতা পাই, তা দিয়ে এক মাস চলে। তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু কথা বলতে পারি, কিন্তু চোখে দেখতে পাই না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। রমজানে অনেক দিন শুধু পানি দিয়ে ইফতার করেছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন । উপজেলা প্রতিবন্ধী নেতা রফিক উদ্দিন ফকির বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা।
একই পরিবারের এতজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জন্য সরকারি বিশেষ সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবারটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত ভাতা ও সহায়তা পেয়ে আসছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কোনো সহযোগিতা এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারটির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়