ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ এখন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা সওজ কার্যালয় ও রেলস্টেশন সংলগ্ন পুরোনো ডাকবাংলো এলাকায় নেই কোনো নৈশপ্রহরী, নেই কোনো নিরাপত্তারক্ষী। দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের কারণে একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকেই পালন করতে হচ্ছে অফিস খোলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে পুরো স্থাপনার দেখভালের দায়িত্ব। এতে সরকারি যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড সওজ কার্যালয়টি বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে অবস্থিত। কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, নির্মাণসামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু এসব সম্পদ রক্ষায় নেই কোনো দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাত নামলে পুরো এলাকাটি অনেকটাই অরক্ষিত হয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কার্যালয়ের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর নিচু হওয়ায় সহজেই যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং নিয়মিত পাহারা না থাকায় সন্ধ্যার পর নির্জন অংশে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
সওজ বিভাগের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুজন চন্দ্র দাস জানান, তিনি গত সাত বছর ধরে সীতাকুণ্ড কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। অফিস খোলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যালয়ের সার্বিক দেখভালের দায়িত্বও তাকে পালন করতে হয়।
তিনি আমার দেশকে বলেন, প্রতিদিন আমিই অফিস খুলি এবং দেখাশোনা করি। রাতে কোনো পাহারাদার থাকে না। এত বড় একটি সরকারি স্থাপনা ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের নিরাপত্তা একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পক্ষে একা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, নিয়মিতভাবে কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সীমিত। সপ্তাহে দুই দিন উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন চাকমা অফিসে আসেন। তবে সাধারণত অফিসে দাপ্তরিক কোনো কাজ নেই বললে চলে।
এদিকে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশন সংলগ্ন সওজের পুরনো ডাকবাংলোটিও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এক সময় দূরদূরান্ত থেকে আসা সওজ কর্মকর্তাদের বিশ্রাম ও রাত্রিযাপনের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ভবনটি জীর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে ডাকবাংলো এলাকায় সওজ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।
ডাকবাংলো এলাকার সরকারি পুকুরের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সেখানে বসবাসকারী নীলরতন আমার দেশকে বলেন, পুকুরে মাছ ধরা হলে তা ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সওজ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিপন চাকমা আমার দেশকে বলেন, ডাকবাংলো এলাকাটি অনেক বড়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করছেন। জনবল সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্তমানে সুজন দাস নামে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিন-রাত কার্যালয়ের দেখাশোনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, পুকুর ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তাই মাছ সাধারণত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই বণ্টন করা হয়। নিরাপত্তা ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম আমার দেশকে বলেন, এক সময় ডাকবাংলোতে দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মকর্তারা বিশ্রাম ও রাত্রিযাপন করতেন। বর্তমানে সেই প্রয়োজন কমে যাওয়ায় ভবনটি অব্যবহৃত রয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে বসবাস করছেন। সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা ও উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সরেজমিনে বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি সম্পদ দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে নৈশপ্রহরী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং ডাকবাংলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
তাছাড়াও সরকারি পুকুর, আবাসন ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার নিয়েও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এসব মূল্যবান সরকারি সম্পদ ক্ষতি, অপব্যবহার ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

