কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে ছয় জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী। তবে জেলার সেরা ফলাফল করেছে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শতভাগ পাসের পাশাপাশি এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫২ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ২৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলে গতবারের ধারাবাহিকতায় এবারও বিদ্যালয়টি জেলায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নোয়াখালী জিলা স্কুল। এ বিদ্যালয় থেকে ২৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলায় জয়নাল আবেদীন মেমোরিয়াল একাডেমি সোনাইমুড়ি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, সদরে মোশারপ গ্রামার স্কুলে শতভাগ পাস করেছে।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলায় সার্বিক পাসের হার ৫৯.৯৮%, যা কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার (৬৫.৪২%) অপেক্ষা প্রায় ৫.৪৪% কম। তবে এ বছর ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও পাশের হার অনেকটা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ১০ হাজার ৩৫৭ জন পাশ করেছে ৬ হাজার ৮ জন অন্যদিকে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিল ১৪ হাজার ৭২৬ জন পাশ করেছে ৯ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১হাজার ২১৭ জন শিক্ষার্থী এবং শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৪টি। গত বছর ও এ জেলায় পাশের হার ছিল ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশ যদিও এ বছর কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে জেলাভিত্তিক ফলাফলে পিছিয়ে থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যেখানে পাশের হার ৬৮.৬৮% হলেও জিপিএ-৫ সর্বোচ্চ ৬৩০টি পেয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলা। ফলাফল খারাপ করেছে হাতিয়া উপজেলা যার পাশের ৪৮.৭০ শতাংশ।
নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার ব্যাপারে বলেন, শিক্ষকদের কঠোর নজরদারি, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তীব্র নজরদারি ও তাদের কঠোর অধ্যাবসায়ই এ সাফল্যের মূল কারণ। তিনি বলেন, গত বছরেও এই বিদ্যালয়টি জেলায় ফলাফলে শীর্ষস্থানে ছিল। আগামী বছরেও ফলাফল শতভাগ করার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা নিয়ে পাঠদান করানো হবে।
এদিকে নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম বলেন, একটি হিসাবে আমাদের স্কুলে ফেল করেনি। কারণ যে চারজন ফলাফল খারাপ করেছে, তাদের একজন কারাগারে থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। দ্বিতীয়জন প্রতিবন্ধী তৃতীয়জন তিনবার ফেল করা অনিয়মিত শিক্ষার্থী চতুর্থজনকে বিভিন্ন অনুরোধে আমরা পরীক্ষাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছি। আগামী পরীক্ষার জন্য আমরা শিক্ষক অভিভাবক ও প্রশাসন যৌথ তদারকির উদ্যোগ নিয়েছি। এক্ষেত্রে ছাত্রদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, অযথা বাহিরে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকা, পড়ালেখার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান, ইতিমধ্যে যারা কিশোরগ্যাং সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

