জুলাই বিপ্লবে আহতদের মামলা না নেয়ার অভিযোগ

জুলাই বিপ্লবে আহতদের মামলা না নেয়ার অভিযোগ

জুলাইয়ের আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুই আহতের মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে। উল্টো ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে ভুক্তভোগীদের হয়রানি করছেন তিনি।

আহতরা হলেন- ফেনী পৌর শহরের মধ্য চাড়িপুর এলাকার ইলাছ মিয়ার ছেলে ২২ বছর বয়সী জগলু মিয়া রিয়াজ ও সোনাগাজী উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে ৩৩ বছরের তাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীরা জানান, কিছুদিন আগে তথ্য প্রমাণ নিয়ে ফেনী পুলিশ সুপারের কাছে যান রিয়াজ। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা শুনে তাৎক্ষণিক ওসি মর্ম সিংহকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরে মামলা হয়ে গেছে বলে দুদিন সময় চান ওসি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো খবর আসেনি। পরে থানায় গেলে এজাহারের ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর আসামি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নাম বাদ দিতে জামায়াত-বিএনপির লোক দাবি করে তাকে সংশোধন করতে বলা হয়। একই সঙ্গে তাকে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই তিন আসামির রাজনৈতিক পরিচয়সহ সব প্রমাণাদি সংগ্রহ করে একই দিন ওসির কাছে যান রিয়াজ। একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন ওসি মর্ম সিংহ। অথচ মাস পেরোলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

রিয়াজ বলেন, ৪ আগস্ট স্থানীয় নোমানের ডাকে উত্তর চাড়িপুর এলাকার আবুল কালামের ছেলে আশরাফুলসহ আমরা চার-পাঁচজন আন্দোলনে যোগ দেই। দুপুরে মহিপাল ফ্লাইওভারে নিচে সবাই নামাজ পড়ার সময় আমরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম। নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহরের দিক থেকে আমাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে হাজারি রোডের মাথায় পৌঁছালে তাদের ছোড়া গুলিতে আমি রাস্তায় পড়ে যাই।

প্রত্যক্ষদর্শী আশরাফুল ও নোমান বলেন, ওই সময় পুলিশ থাকলেও কোনো ভূমিকা রাখেনি। আমরা রিয়াজকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেই। কিন্তু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ঢুকতে দেয়নি। উল্টো মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করে। পরে শহরের সালাউদ্দিন মোড়ে মেডিল্যাব হাসপাতালে নেয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াজের বাম কাঁধে লাগা গুলিটি বের করেন চিকিৎসকরা।

প্রায় একমাস পর সুস্থ হয়ে থানায় মামলা করতে যান রিয়াজ। কিন্তু জনতার আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় মামলা নিতে অপারগতা জানান ফেনী মডেল থানার তৎকালীন ওসি।

এরপর গত ১৫ জানুয়ারি ফেনীর সাবেক সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, তার সহযোগী শুসেন চন্দ্র শীল, নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, মেজাবাহুল হায়দার চৌধুরী সোহেল, জানে আলমসহ ৮০ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু মামলাটি নিতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন বর্তমান ওসি মর্ম সিংহ। এমনকি এসপির নির্দেশও তিনি আমলে নেননি। উল্টো মোটা অংকের টাকা খেয়ে আসামিদের সঙ্গে গোপনে সখ্য গড়ে তুলছেন।

এর আগে, ৩০ অক্টোবর একই ঘটনায় হাজারীসহ ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের ১৮৩ জনের নামে অভিযোগ দেন গুলিবিদ্ধ তাজুল। তিন-চার মাস পার হতে চললেও তার মামলাটি রুজু করা হয়নি।

এ নিয়ে ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরাকে কল করা হয়। কিন্তু কলটি ধরেন ওসি (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওসি স্যার নোয়াখালীতে ট্রেনিংয়ে গিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত চলছে। তিনি ফিরে এলে মামলা নেয়া হবে।’

এসব ব্যাপারে জানতে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন