‘আমি তো আর দেখতে পারবো না। বুলেট তুমি বাসায় চলো। ওরে বুলেট, ওরে কলিজা। আমি তো আর দেখতে পারবো না। বুলেটকে তো পুড়াই দিবে। আমারে কোথায় রাখি গেছো । আমি তোমারে ছাড়া কিভাবে থাকবো । আমাকে একটু টাচ করো । আমি তো আর দেখতে পাবো না।’
বলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে এসব কথা বলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী উর্মী হীরা। চাকরির সুবাদে কুমিল্লায় স্বামীর সাথে সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে তিনি ভাড়া থাকতেন।
এরআগে, চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় বুলেট বৈরাগীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম ।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষ করে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, তখন কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সকালে কোটবাড়ি এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়।
রোববার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুলেট বৈরাগীর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে শেষকৃত্য শেষে দাহ করা হবে। এর আগে প্রিয় কর্মস্থলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। অশ্রুসজল নয়নে সহকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধায় প্রিয় সহকর্মীকে চিরবিদায় জানান। স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে কাস্টমস অফিসের পরিবেশ।
নিহতের মা নিলীমা বৈরাগী অভিযোগ করে বলেন, তার মৃত্যু কোনোভাবেই দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তারা খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কুমিল্লা ভ্যাট ও ট্যাক্স অফিস কমিশনার আবদুল মান্নান সরদার বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতা করবে কাস্টমস অফিস।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইসতিয়াক হাসান আমিন বলেন, বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুতে সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যু রহস্য উন্মোচনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

