চট্টগ্রামের বাঁশখালীর লবণচাষিরা মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ চাষি উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে লবণ উৎপাদনে নামেন। চলতি বছর প্রচুর লবণ উৎপাদন করেও তাদের এখন মাথায় হাত দেওয়ার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। লবণচাষিরা জানান, প্রতি একমণ লবণ ২৪০/২৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এতে প্রতি মণ লবণে চাষিদের ১৭০ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। কারণ, প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে চাষিদের খরচ হয় প্রায় ৩৫০ টাকা।
দফায় দফায় লবণের দাম কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে চাষিরা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও কার্গো বোটের মালিকেরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে লবণ বিক্রির সুযোগ নেই। এখানে আছে কার্গো বোটের মালিকদের দৌরাত্ম্যও। উৎপাদিত লবণ সমুদ্রপথে কার্গোবোটে করেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ-খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠাতে হয়। ফলে তাদের কাছে হাত-পা বাঁধা চাষিদের।
বাঁশখালীর লবণচাষি ইউনুস, জাকের আহমদ বলেন, মাঠপর্যায়ে কাঁচা লবণের উৎপাদন খরচ মণপ্রতি প্রায় ৩৫০ টাকা পড়লেও চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ২০০-২৫০ টাকা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা লোকসানে আছেন। খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত লবণ প্রতি কেজি ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হলেও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মণপ্রতি চার-পাঁচশ টাকার ওপরে লবণের দাম থাকা প্রয়োজন।
এদিকে গত শনিবার এ পরিস্থিতিতে লবণ ও মৎস্যচাষিদের অধিকার আদায়, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় লবণশিল্প রক্ষার দাবিতে বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের জলকদর খালস্থ খাটখালী মোহনায় এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে লবণ উৎপাদনের খরচ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে গেছে। জমির ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, পলিথিন, সেচপাম্প, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। অথচ বাজারে প্যাকেটজাত লবণ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও মাঠপর্যায়ে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কেনা হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা কেজি দরে। এতে একদিকে অসাধু সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল মুনাফা অর্জন করছে, অন্যদিকে প্রকৃত উৎপাদকরা লোকসানে পড়ে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
সভায় লবণ ও মৎস্যচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, মাঠ পর্যায়ের সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোরব্যবস্থা গ্রহণ, বিনা সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, ভর্তুকি মূল্যে পলিথিন ও সেচপাম্প সরবরাহ এবং উপকূলীয় লবণ ও মৎস্যশিল্প রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

