চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় ভার্চুয়ালি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি। তবে এভাবে সভা আহ্বানের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চমেক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরেন উপাচার্য। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, ‘উপাচার্য শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চুয়ালি এই সভা হবে। আমি ছুটিতে আছি, যোগ দিতে পারব কি না নিশ্চিত নই।’
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, উপাচার্য তাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে সভার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মেসেজ পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না বা এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে কি না, তা জানি না। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা উপাচার্য ভবনে তালা দেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে ঢোকেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

