নবীনগরে র‍্যাবের ওপর হামলায় ৩ সদস্য আহত, চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ

উপজেলা প্রতিনিধি, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

নবীনগরে র‍্যাবের ওপর হামলায় ৩ সদস্য আহত,  চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ
ছবি: আমার দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের একাধিক মামলার আসামি শফিক ও তার বাহিনীর হাতে সোমবার বিকেলে র‍্যাবের তিন সদস্য আটক ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, র‍্যাবের তিন সদস্য আহত অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় শফিক 'বলছে,"ক" মার দুধের কসম, আজীবন আর এই খাগাতুয়া গ্রামে আইতি না, যদি প্রশাসনের লোক আবার খাগাতুয়া আইছচ, একবারে কাইট্টা ফালাই দিমু। এর আগে দুইবার আইচছ আমারে ক্রসফায়ারে মাইরালাতি। অপরদিকে র‍্যাব সদস্যরা কান ধরে বলছেন, মায়ের দুধের কসম, আল্লাহ জেন আমাদের দ্বারা আপনার কোনো ক্ষতি না করে।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাব সিপিসি-৯ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে খাগাতুয়া গ্রামের ভেতর দিয়ে র‍্যাব ৯ সিপিসি-১-এর চার সদস্যর একটি গোয়েন্দা টিম বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে ওই র‍্যাব সদস্যদের শফিক ও তার বাহিনী ঘিরে আটকে ফেলে।

পরিচয় দেওয়ার পরই র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় সার্জেন্ট ফারুক কোনোভাবে স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হলেও হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (বিজিবি) (৪২), কনস্টেবল মো. কাজল মিয়া (৩৩) ও কনস্টেবল আব্দুল মালেককে (৩৪) আটক করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের হালিম মিয়ার বাড়িতে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখে।

খবর পেয়ে র‍্যাব সিপিসি-৯-এর একটি দল ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পরবর্তীকালে পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ তিন র‍্যাব সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। পরে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার হয়ে চলে যায়।

শফিকের বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় চুরি, ডাকাতি ও খুনের মামলাসহ ২৮টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

নবীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোরশেদুল আলম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, যাদের আটক করা হয়েছিল তারা র‍্যাবের সদস্য ছিলেন।

নবীনগর সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে গেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

র‍্যাব-৯ সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূর নবী জানান, ‘আমাদের সদস্যরা নবীনগর–বাঞ্ছারামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য খাগাতুয়া গ্রামে গেলে সন্ত্রাসী শফিক ডাকাত ও তার দল তাদের গতিরোধ করে হামলা চালায়। এতে তিন সদস্য আহত হন। দুজনের হাত ভেঙে গেছে এবং একজনের মাথায় কোপ লেগেছে।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। হত্যা, চুরি, হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবেও সে এলাকায় চিহ্নিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন