আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কুয়াশায় লবণ চাষ ব্যাহত বাঁশখালীতে

মুহিব্বুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

কুয়াশায় লবণ চাষ ব্যাহত বাঁশখালীতে

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা, পেকুয়া ও রাজাখালীর ৬৯ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন শুরু করেছে ৩৮ হাজার লবণ চাষি। একদিকে ঘন কুয়াশায় লবণ চাষ ব্যাহত হয়েছে অন্যদিকে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিয়ে হতাশ চাষিরা।

বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, কাথরিয়া এবং খানখানাবাদ ও পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা, পেকুয়া ও রাজাখালী লবণ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এসব এলাকায় শীতের শুরুতেই লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার কৃষক আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ নিয়ে ব্যস্ত। এ অঞ্চলে লবণ উৎপাদন শুধু বাণিজ্যিকভাবে হয়, যা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে এবং এ প্রক্রিয়ায় বিসিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করায় উৎপাদন প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি হয়।

বিজ্ঞাপন

বিসিকের তথ্যমতে, চলতিবছর ৬৯ হাজার একরেরও বেশি জমিতে আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে । শতভাগ জমিতে এ পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন হওয়ায় চাষিরা তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদনে সক্ষম হবেন।

বাঁশখালীর সাগর উপকূলীয় ছনুয়া গ্রামের লবণ চাষি আবদু ছোবহান বলেন, আমি বর্গা নিয়ে দুই একর জমিতে লবণ চাষ করি। লবণের ন্যায্যমূল্য না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। লবণ চাষি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, লবণ উৎপাদন হোক বা না হোক জমির মালিককে জমির খাজনা পুষিয়ে দিতে হয়।

ঘন কুয়াশায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুপুরের রোদে উৎপাদিত লবণ রাতেই পানি হয়ে যায়।

বিসিকের বাঁশখালী উপজেলার কর্মকর্তা আনসারুল করিম জানান, বাঁশখালী ও কক্সবাজারে এবার চাহিদার চেয়ে ২ লাখ টন লবণ বেশি উৎপাদন হতে পারে। বাঁশখালীর অনেক চাষি আগাম সময়ে মাঠ তৈরি শেষে নিজেদের রপ্ত কৌশলে জমিতে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জমিয়ে তাতে সূর্যের তাপ দিয়ে পানি শুকিয়ে জমি তৈরি করে উৎপাদন করছে লবণ। বাঁশখালীর লবণের বিশেষ স্বাদ ও উজ্জ্বলতা অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক বেশি।

এখানকার লবণের মান উন্নত হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাঁশখালী বাজারে প্রতি কেজি লবণের দাম ১ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে। এদিকে পাইকারি প্রতিমণ লবণ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে সরকারি সহায়তার অভাবে মিল মালিক ও মহাজনরা চাষিদের কাছ থেকে কম দামে লবণ কিনে তা পরে উচ্চমূল্যে বাজারজাত করছেন বলে অভিযোগ চাষিদের।

গত মঙ্গলবার বাঁশখালীর ছনুয়া ও গন্ডামারা এলাকার লবণ মাঠ পরিদর্শন ও চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লবণ উৎপাদনে বর্তমানে পলিথিন পদ্ধতি ব্যবহৃত হলেও এ পদ্ধতিতে খরচ বেশি।

অনেক লবণচাষি এ কারণে মহাজন বা মিল মালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে লবণ উৎপাদন করছেন।

ছনুয়ার জমিদার বোরহান উদ্দিন চৌধুরী মিজান ও ব্যবসায়ী আলী আজগর সরকারের কাছে দাবি জানান, দেশীয় লবণশিল্প রক্ষায় লবণ আমদানি বন্ধ করে, চাষিদের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করার ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন