ছুটির দিন শেষে অফিসে ফেরার তাড়া। কিন্তু প্ল্যাটফর্মেই কাটল রাত। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা পর ছাড়ে রোববার ভোর চারটায়। এতে ভোগান্তীতে পড়েন যাত্রীরা।
শনিবার রাত পৌনে ১০টায় ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু রেলের পক্ষ থেকে দফায় দফায় ঘোষণা ‘আসছে ট্রেন’, ‘দুই ঘণ্টা দেরি’, আবারও ‘আরও দুই ঘণ্টা’। কিন্তু ট্রেনের দেখা মেলেনি রাতভর।
সরকারি কর্মকতা আফজাল হোসেন বলেন, ছুটিতে চট্টগ্রামে এসেছিলাম। ভাবলাম রোববার অফিস করতে পারবো, কিন্তু রাতভর স্টেশনে বসে ছিলাম। অফিসে যেতে পারব না। আগে জানালে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারতাম।
অনেক যাত্রীই বলেন, সময়মতো জানানো হলে বাসে যাওয়া যেত। কেউ কেউ ছিনতাইয়ের ভয়েই বাড়িও ফেরেননি। স্টেশনেই কেটেছে রাত। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি ছিল চরম। মশার কামড়, কুকুরের উৎপাত সব মিলিয়ে ছিল বিভীষিকাময় রাত।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, কুমিল্লায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ায় উদয়ন দেরিতে ছাড়ে। তবে ট্রেন যাত্রীদের প্রশ্ন এ খবর আগেই দিলে যাত্রীরা প্রস্তুতি নিতে পারতেন না?
এদিকে ঢাকার কমলাপুর থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেসও রাত সোয়া ১১টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়ে আড়াইটায়। যাত্রীরা জানান, বগিতে ত্রুটি ছিল। বাতি, ফ্যান কিছুই চলছিল না।
আরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, খুদে বার্তায় বলা হয়েছিল এক ঘণ্টা দেরি হবে। কিন্তু হয়েছে তিন ঘণ্টা!
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রসুলপুর রেলস্টেশন এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে চট্টগ্রামমুখী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই ট্রেনের ইঞ্জিন উদ্ধার করা হলে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। এই পাহাড়িকা এক্সপ্রেস চট্টগ্রামে আসার পর সিলেট যায় উদয়ন এক্সপ্রেস হয়ে।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, কুমিল্লায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন উদ্ধার করতে সময় লেগেছে। এ কারণে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস দেরিতে ছেড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

