কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত পাকা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করে। তারপর নগদ টাকা, ও স্বর্ণলংকার লুটের পর সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা গৃহকর্তার স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ডলুনিঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় সন্দেহভাজন ৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেন। তার স্ত্রী দুই কন্যা সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত ওই বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারপর ডাকাত দলের সদস্যরা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের নারী সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর আলমিরা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়ার পর সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা গৃহকর্তার স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তার স্কুল পড়ুয়া কন্যাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে ডাকাতির খবর পেয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ ও থানার ওসি মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় সন্দেহভাজন ৬ ব্যক্তিকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ তারেক, কেফায়েত হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ তানজিদ ও রেজাউল করিম। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই মাতামুহুরি উপজেলার বাসিন্দা।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলুনিঘোনা এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন ৬জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আর কারা কারা জড়িত তার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

