সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের ৩৭টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কারিগরি কমিটির পক্ষ থেকে ৪২টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছিল। পরে কমিশন পর্যালোচনা করে ৩৯টি আসনে পরিবর্তন এনে খসড়া প্রকাশ করেছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত তালিকায় কুমিল্লার চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এমন সিদ্ধান্তে কিছু কিছু এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। আবার কেউবা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী প্রাথমিক তালিকার ওপর প্রাপ্ত আপত্তি, দাবি, সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা শেষে এবং প্রকাশ্য শুনানি গ্রহণ করে কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করেছে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার সংসদীয় আসনগুলোর সীমানায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কুমিল্লা-১ আসন এখন দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত। কুমিল্লা-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে হোমনা ও তিতাস উপজেলা। কুমিল্লা-৩ আসন নির্ধারিত হয়েছে মুরাদনগর উপজেলা, আর কুমিল্লা-৪ আসন দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসন গঠিত হয়েছে ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলা নিয়ে।
কুমিল্লা-৬ আসন রাখা হয়েছে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা ও সদর দক্ষিণ উপজেলা মিলিয়ে। কুমিল্লা-৭ আসন চান্দিনা উপজেলা, কুমিল্লা-৮ আসন বরুড়া উপজেলা, কুমিল্লা-৯ আসন মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম উপজেলা এবং কুমিল্লা-১০ আসন নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা-১১ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে এককভাবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে।
এর আগে ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক মহল থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও আপত্তি জমা পড়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এসব দাবির ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে তথ্য-উপাত্ত এবং শুনানিতে উপস্থাপিত যুক্তি বিশ্লেষণ করে কমিশন নতুন এই তালিকা প্রকাশ করে।
এদিকে আসন পুনর্বিন্যাস তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরপরই আবারো বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, কুমিল্লা সদর আসন আগেই অনেক বড় ছিল, এর মাঝে সদর দক্ষিণ যুক্ত হয়ে এই এক আসনের ভোটার এখন ৬ লাখের ওপরে হয়ে যাবে। এত ভোটার একটি আসন, এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে মেঘনা উপজেলাকে কুমিল্লা-১ আসনে দাউদকান্দির সাথে মেঘনা উপজেলাকে সংযুক্ত করায় । কেউ কেউ বলছেন সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। আবার কেউবা বলছেন বৈষম্য রয়েই গেলো। এই আসনে বিএনপি'র প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন এবং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কুমিল্লা বিভাগ অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বাহালুল ।
কুমিল্লা দুই হোমনা এবং তিতাস উপজেলাকে নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন গঠিত। এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস আব্দুল মতিন বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা।
এদিকে নতুন করে আলোচনায় জন্ম দিয়েছে কুমিল্লা সদর-৬ আসন নিয়ে। এই আসনে কুমিল্লা সদর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এবং কুমিল্লা সেনানিবাসের সাথে যুক্ত হয়েছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা আগে কুমিল্লা-১০ আসনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। নতুন করে কুমিল্লা-৬ আসনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে এখন বিএনপির চেয়ারপারসনের দুইজন উপদেষ্টা বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন । একজন হলেন মনিরুল হক চৌধুরী, আরেকজন হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন । দুজনেই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। এছাড়াও এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এখানে জামায়াতের একক প্রার্থী কুমিল্লা মহানগর জামাতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ । এছাড়াও এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছে ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

