বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৪৪৬ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ২৭ হাজার কৃষক। নানান সবজি ক্ষেত ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়, বর্তমানে বাজারে দাম বেড়েছে বিভিন্ন মৌসুমি সবজির।
স্থানীয় বাজারে বর্তমান সবজির মধ্যে প্রতি কেজি কাকরোল ১২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, কচুরলতি ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা, আলু (দেশি) ১০০ টাকা, আলু (চট্টগ্রামের বাইরের) ৩০ টাকা, কাঁচা কলা ২০ টাকা (প্রতি পিস)। অথচ বন্যার মাত্র কয়েকদিন আগেও এসব সবজির বেশিরভাগই প্রতি কেজি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়।
চট্টগ্রামের বাজারে বড় একটি সবজির অংশের জোগান আসে বাঁশখালী থেকে। সারা বছর উৎপাদিত এসব সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার হাজারো কৃষক। সরেজমিনে পুঁইছড়ী, নাপোড়া, শেখেরখীল, চাম্বল, জলদী, বৈলছড়ী, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া ও সাধনপুরে গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায়, উৎপাদন কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারেও।
বর্তমানে প্রায় সব ধরনের সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। পূর্ব-পুঁইছড়ীর সবজি চাষি হেলাল বলেন, তার কাঁকরোল ক্ষেতের অধিকাংশই বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, বন্যায় উপজেলার ২৭ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকারি হিসেবে কৃষি খাতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সবজি ও অন্যান্য কৃষি ফসল মিলিয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সাহায্য ও সহজশর্তে দ্রুত ঋণের ব্যবস্থা করা না হলে, তাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই জানান কৃষকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

