মতলবে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

মতলবে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য। মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার না পেয়ে বরং পেয়েছেন আরেকটি উপজেলার দায়িত্ব পালনের পুরস্কার।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে মতলব উত্তর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাকে মতলব দক্ষিণসহ দুই উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন ১০২টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, একসময় মতলবের এমপি এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তখন আশরাফুল আলম হয়ে ওঠেন আরো বেশি বেপরোয়া। ফলে আশরাফুল আলম নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিও এবং উচ্চতর স্কেলে কাজ করার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় না করে ফাইল ওপরে পাঠাতেন না বলেও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ৫১টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তিনি উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলার নামে চার হাজার টাকা এবং শীতকালীন খেলাধুলার নামে চার হাজারসহ মোট আট হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। বছরে কেবল খেলাধুলার নামেই তিনি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চার লাখ আট হাজার টাকা উত্তোলন করেন। দুই মৌসুমে সরকারি বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকাসহ সর্বসাকুল্যে বছরে ৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে দায়সারাভাবে খেলাধুলা শেষ করেন। এর সিংহভাগ টাকাই তিনি আত্মসাৎ করেন বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনেকে অভিযোগ করেন।

দশম গ্রেডের সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হয়েও তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলার ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি স্কুল পরিচালনা কমিটি নির্বাচনে ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টি উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছিলেন।

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক (ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘ভাই, কাজ করতে গেলে ভুল-শুদ্ধ থাকতেই পারে।’

এ বিষয়ে কথা হলে চাঁদপুরের জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ‘তার বিষয়ে এত অভিযোগের কথা তো আমি জানি না। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন