আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর ইটভাটা ও ফসলি জমি লুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর ইটভাটা ও ফসলি জমি লুটের অভিযোগ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে এক প্রবাসীর ইটভাটা ও ফসলি জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নীরব ভূমিকা এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করেই এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বায়েজিদ আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বরুড়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না তিনি।

এছাড়া বায়েজিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, বরুড়া থানার ওসি আজহারুল ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন একটি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আমার ব্রিকসের মাটি লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার একটি রেস্টুরেন্টে বসে তাদের এই চুক্তি হয়, যে কারণে প্রশাসন আমাকে কোনো সহযোগিতা না করে আক্তার হোসেনকে মাটি লুট করে নিতে সহযোগিতা করছে। এছাড়া বরুড়ার সাবেক এমপি সফিউদ্দিন শামীমের প্রভাব খাটিয়ে গত ১৬ বছর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-জুলুম করেছিলেন এই আক্তার হোসেন।

জানা যায়, বরুড়া উপজেলার গহিনখালী এলাকায় অবস্থিত প্রবাসী মো. বায়েজিদ আহমেদের মালিকানাধীন শামীম ব্রিকস নামক ইটভাটা থেকে প্রতিদিন রাত ৯টার পর অর্ধশতাধিক ডাম্পট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র গভীর রাতে ভাটায় প্রবেশ করে দ্রুতগতিতে মাটি লুট করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এ ঘটনা নিয়মিত ঘটায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের ফলে এলাকার সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. বায়েজিদ আহমেদ অভিযোগপত্রে বলেন, তার মালিকানাধীন ব্রিকফিল্ডের জন্য সংরক্ষিত ও মজুতকৃত মাটি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আক্তার হোসেনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বন্ধক নেওয়া জমিতে ব্রিকফিল্ডের কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি মাটি মজুত রেখেছিলেন, সেই জমির মাটিও কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে তার ব্রিকফিল্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তিনি আরো বলেন, ব্রিকফিল্ডের জমি ব্যাংকে মর্গেজ দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যাংক ঋণ রয়েছে। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে তার ব্যবসা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটায় সড়ক ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বায়েজিদ আহমেদ আরো জানান, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় এই সুযোগে তার ভাই আক্তার হোসেন ও তার ছেলেরা অবৈধভাবে তার জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে। থানায় অভিযোগ করার পরও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ মাটি লুট বন্ধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলেও তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে অত্যাচার চালাতেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি । এবং তার মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি ।

বরুড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় সরকার দৈনিক আমার দেশকে বলেন, আক্তার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে এসব কাজ করছেন। যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, আক্তার সেই সরকারের ছায়াতলেই অবস্থান করেন৷ যে কারণে তার সঙ্গে এলাকাবাসী কোনো বিষয়ে পেরে ওঠে না।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে বড়ুরা থানার ওসি আজহারুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার সাথে আক্তার হোসেনের এমন কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি, কোনো চুক্তিও হয়নি। যদি কেউ এমন অভিযোগ করে থাকে, তাহলে সেটা প্রমাণ করুক।’

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ‘আমরা গাড়ি আটকের জন্য বারবার চেষ্টা করছি । আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওরা পালিয়ে যায় । সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ পর্যন্ত তিনবার অভিযান চালিয়েছেন ।’

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন