মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রেও সৃষ্টি হয় চরম জলাবদ্ধতা। হাঁটু সমান নোংরা পানিতে বসেই এসএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকালে স্বল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিপরীত পাশে অবস্থিত ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা যায়। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের নিচতলার কয়েকটি কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেঞ্চের নিচে পানি জমে আছে, আর সেই নোংরা পানির মধ্যেই বসে পরীক্ষার্থীরা খাতায় লিখছেন। অনেকের জামা-কাপড় ভিজে যায় এবং প্রশ্নপত্র ও খাতা ভিজে যাওয়ার আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা চরম উদ্বেগে পড়েন।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পানির মধ্যে বসে লেখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। পা অবশ হয়ে আসছে এবং খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া যাচ্ছে না।
কর্তব্যরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরাও পানিতে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে, কিন্তু পরীক্ষা স্থগিতের কোনো নির্দেশনা নেই।”
কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক আবু জাফর বলেন, শিক্ষা বোর্ডের ঠিক পাশের একটি স্কুলে এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছরই সামান্য বৃষ্টিতে স্কুলটি পানিতে তলিয়ে যায়, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
আরেক অভিভাবক আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নোংরা পানিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। অসুস্থ হলে দায় কে নেবে?”

ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, বিষয়টি প্রাকৃতিক কারণে হয়েছে। কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের যেন সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ড্রেন ও খালে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পানি অপসারণে কাজ করছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ও পলিথিন পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডভিত্তিক শ্রমিক নিয়োজিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কুমিল্লা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে পরীক্ষায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে পরীক্ষার্থীদের এমন ভোগান্তি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

