চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতাকে আটকের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানা ঘেরাও করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই ঘেরাও কর্মসূচিতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। পরে ওই নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় সোর্সের দেওয়া তথ্য ভুল ছিল বলে দাবি করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে চান্দগাঁও থানার ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির হামলা রয়েছে বলে প্রথমে জানানো হয়। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের দাবি, এই মামলা সম্পূর্ণ সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এপ্রিল মাসে কাপ্তাই এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি জনসচেতনতামূলক সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন। সমাবেশের পর স্থানীয় জনগণ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একটি প্রভাবশালী মহল হাবিবুর রহমানকে টার্গেট করে এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দেয়।
ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান বলেন, চাঁদা আদায় নিয়ে গঠিত একটি কথিত কমিটিতে হাবিবুর রহমানের নাম ষড়যন্ত্র করে ঢুকানো হয়। গতকাল আমরা থানায় গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলছিলাম। কিন্তু পুলিশ উল্টো হাবিবুর ভাইকেই ধরে নিয়ে যায়। এটি সরকারের দমন-পীড়নেরই অংশ।
এদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই থানা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ‘মিথ্যা মামলা বাতিল করো’, ‘নির্দোষ হাবিব ভাইকে মুক্তি দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানান, হাবিবুর রহমানকে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া আদালতে পাঠানো হলে, আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একপর্যায়ে থানা গেটের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তা আটকে দেন।
জানাতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, হাবিবুর রহমান নিজেই থানায় আসেন। আমাদের এক সোর্স জানায়, তিনি ওই মামলার আসামি। এরপর আমরা তাকে আটকে রাখি এবং মামলার বাদীকে খবর দিই। পরে বাদী ১১ জন সাক্ষীসহ থানায় এসে জানান, হাবিবুর মামলার আসামি নন। এরপর আমরা তাকে ছেড়ে দিই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

