ভারতীয় সিমে নিয়ন্ত্রণ করতেন চোরাচালান, সিন্ডিকেটের মূলহোতা গ্রেপ্তার

ভারতীয় সিমে নিয়ন্ত্রণ করতেন চোরাচালান, সিন্ডিকেটের মূলহোতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় অবৈধ ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কামাল উদ্দিন ওরফে কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাতে করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার কামাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের আমলীঘাট এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে করেরহাট ইউনিয়নের অলিনগর ও আশপাশের পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ বেচাকেনা ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন কামাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে আনা বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশি নাগরিক হলেও কামাল নিয়মিত ভারতীয় মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভারতীয় নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ কল করতে হতো বলে জানিয়েছেন তারা। ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। মামলা দুটি হলো- মামলা নম্বর ২৭ ও ২৯।

করেরহাট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত চোরাচালান চক্রে কামাল উদ্দিন ছাড়াও ইমন, জানু মিয়া, সেলিম উদ্দিন ও ফারুকসহ কয়েকজন সক্রিয় রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য এনে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরসরাই উপজেলার পূর্ব সীমান্তে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে। করেরহাট ইউনিয়ন ও আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এসব পথ ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ করায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় চিনি, ফেনসিডিল, কাপড়, থ্রি-পিস, গরু, হরলিক্স, চকলেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম পথ ব্যবহার করায় অনেক সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে এসব পণ্য দেশে ঢুকছে।

এদিকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। গত ২৪ জুন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। ২৮ জুন উদ্ধার করা হয় ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ৩০ জুন উদ্ধার করা হয় ১৯টি ভারতীয় গরু।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, “কামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “তদন্তে জানা গেছে, কামাল ভারতীয় সিম ব্যবহার করতেন এবং ভারতে তার বিয়ে হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন