চট্টগ্রামের শুলকবহর মাইজপাড়া এলাকায় পুলিশকে জুয়ার আসরের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে বেলাল হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে জুয়ার আসরের মূল হোতা সামসু। বর্তমানে ওই যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় পাঁচলাইশ থানাধীন ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ওই এলাকার শীর্ষ জুয়াড়ি সামসুকে ধরতে মাইজপাড়া নালারপাড় এলাকায় অভিযান চালায় পাঁচলাইশ থানার পুলিশ। তবে অভিযানের সময় সামসুকে না পেয়ে পুলিশ ফেরত আসে। এর আগে গত ১৬ মে সামসুর ত্রিপলের জুয়ার আসর থেকে ১১ জুয়াড়িকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানার পুলিশ।
গতকাল ফের পুলিশের অভিযানের জের ধরে শনিবার সকালে হিলভিউ আবাসিকের ১০ নম্বর রোডে মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় বেলালকে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে সামসু। এ সময় বেলালের বাহু ও কবজিতে কোপানো হয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
বেলালের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সামসু শনিবার ভোরে ‘তুই আমার জুয়ার বোর্ডের তথ্য কেন দিয়েছিস পুলিশকে’ বলেই বেলালকে কোপানো শুরু করে। রক্তাক্ত করে সামসু পালিয়ে যায়। বেলালের হাতে ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার হাতে গুরুতর জখম হওয়ায় তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
এর আগে, ১৬ মে সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিএমপির মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের টিম-৩৪-এর একটি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাইজপাড়ার নালাখালপাড়াস্থ সামসুর অস্থায়ী ত্রিপলের ছাউনি থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় চার বান্ডেল তাস এবং নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ টাকাসহ ১১ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। সামসুর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি ভোরে একটি দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় সামসু আমাকে তার জুয়ার বোর্ডের তথ্য পুলিশকে দেওয়ায় পকেট থেকে ছুরি বের করে আঘাত করা শুরু করে। এতে আমার হাতের বাহু ও কবজি কেটে যায়। এ ঘটনায় আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবছার বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

