টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সহস্রাধিক মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য খাতে সাড়ে ৭ কোটি এবং আউশ ধান ও বীজতলা নষ্ট হয়ে কৃষিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
১০০ কিলোমিটার সড়কের পিচ উঠে গেছে। অনেক স্থানে দুই ভাগ হয়ে গেছে সড়ক। ১ হাজার ১০০ পুকুর ও ১৫ ঘেরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ২ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমির আমন আবাদ, বীজতলা, সবজি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার সংশ্লিষ্ট অফিস ও মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট অফিস ও কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যায় আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া, হাইলধর, বটতলী, রায়পুর, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ ও প্রধান সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেছে। আবার কোথাও অতিবৃষ্টিতে সড়কের মাঝখানে মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সড়কের পাশের গাছের গোড়া নরম হয়ে শত শত গাছের গোড়ার মাটি ও পিচ ঢালাইসহ উপড়ে পড়েছে। এতে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ২ হাজার ১৯২ হেক্টর জমির আউশ ধান, ২০ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৮০ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, ২ কোটি ৮৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫৯ হেক্টর জমির সবজি ও ৮ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ হেক্টর জমির ফল বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি ও বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ করে নিচু এলাকায় ১ হাজার ১০০ পুকুর ও ১৫টি মৎস্য ঘের বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মৎস্য খামারি ও সাধারণ মানুষের প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। চূড়ান্ত তথ্য সংগ্রহে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে অনেক টাকার প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমেদ জানান, এবারের টানা বৃষ্টি ও বন্যায় সারা উপজেলাজুড়ে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছুদিন পর কৃষকরা আউশ ধান ঘরে তুলত। আমনের জন্য বীজ লাগিয়েছে। বৃষ্টিতে সব শেষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিন উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে আনোয়ারায় ব্যাপক বন্যা না হলেও সড়ক যোগাযোগ, মৎস্য ও কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পানি চলে যাওয়ার পর ক্ষতিগুলো ভেসে উঠছে। সরকার বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

