ছিলেন রিকশাচালক, নার্সারি বানিয়ে এখন কোটিপতি লুৎফর

ছিলেন রিকশাচালক, নার্সারি বানিয়ে এখন কোটিপতি লুৎফর
নরসিংদীর শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামে নিজের নার্সারিতে লুৎফর রহমান । আমার দেশ

রিকশাচালক থেকে নার্সারি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন নরসিংদীর শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান সরকার। নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। চেষ্টা থাকলে যেকোনো কাজে সফল হওয়া যায়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি । এখন আর তাকে রিকশা চালাতে হয় না। এখন তিনি কোটিপতি। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ পেয়ে খুশি শ্রমিকরাও। বিভিন্ন জাতের গাছ, ফলফুলের চারা বিক্রি করে ভালো অঙ্কের টাকা আয় করছেন তিনি। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে বাড়ির আঙ্গিনায় মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে লুৎফর সরকার প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। লুৎফর সরকারের নার্সারিতে এখন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের গাছের মজুত রয়েছে। তিনি নার্সারির নাম দিয়েছেন মেসার্স পল্লি নার্সারি সেন্টার।

লুৎফর সরকার জানান, ১৯৮৭ সালে শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সময় স্কুলের টিফিনের বিপরীতে অন্য বন্ধুদের মতো আড্ডা না দিয়ে পাশেই শিবপুর বন বিভাগে গিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। তখন থেকে তার স্বপ্ন জাগে নার্সারি গড়ে তোলার। এতে একদিকে যেমন দেশের উপকার হবে, অন্যদিকে দূর হবে তার অভাব। কারণ সংসারের অভার অনটন দূর করতে তিনি কখনো রিকশা চালাতেন, কখনো বেতের দরজা বানিয়ে বিক্রি করতেন। এমনইভাবে সংসার চালিয়ে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে না পারায় বাবার অগচোরে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট পরিসরে চারা লাগান। আস্তে আস্তে মানুষের চাহিদা বেড়ে যায়, তিনিও নার্সারি বাড়াতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি আজ একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী।

বিজ্ঞাপন

শিবপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন স্থানে ১০ বিঘা জমির ওপর তার এই নার্সারি। এর মধ্যে পাঁচ বিঘা ক্রয় ও পাঁচ বিঘা ভাড়া নিয়েছেন। নার্সারি চাষে সফল হওয়ায় তিনি এ পর্যন্ত শিবপুর উপজেলায় ১৩ বার, জেলায় সাত বার ও জাতীয়ভাবে ২০১০ ও ২০২৬ সালে পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে শিবপুর উপজেলায় প্রথম, জেলায় দ্বিতীয়, ১৯৯৯ সালে উপজেলায় ও জেলায় প্রথম, ২০০৯ সালে মেলায় প্রথম। এবার ২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং লুৎফর রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বর্তমানে লুৎফর রহমানের নার্সারিতে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছসহ হাজার হাজার চারাগাছ রয়েছে। সারা বছর যেকোনো ধরনের গাছ তার নার্সারিতে পাওয়া যায়। যার মধ্যে বিদেশি ফল রামবুটান, এবুকাডু, পার্সিমন, ডুরিয়ান, আপেল, থাই লংঘান, বারমাসি ভিয়েতনামের পিংক কাঁঠাল ইত্যাদি। দেশীয় ফল লটকন, নারিকেল, সফেদা, বেল, পেয়ারা, বড়ই, কাঁঠাল, জলপাই, আম ইত্যাদি ওষুধি গাছের চারা হরতকি, আমলকি, দেশীয় নিম, আর্জুন ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে বিভিন্ন জাতের রঙ্গন, গোলাপ, জবা, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামেনি, বেলি ইত্যাদি, সবজি জাতীয় মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপে, শসা, জালি ইত্যাদি। কাঠ জাতীয় মেহগনি, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি জাতের চারা গাছ রয়েছে।

লুৎফর রহমান আরো জানান, তার নার্সারিতে ১৭ জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করেন লুৎফর রহমান। এতে তার পিতামাতাসহ সাত সদস্যের সংসার ভালোভাবেই চলছে বলে জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন