ঘোড়াশাল সারকারখানার জিএম আতিকুরের বিরুদ্ধে তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

ঘোড়াশাল সারকারখানার জিএম আতিকুরের বিরুদ্ধে তেল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার বাণিজ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (মহাব্যবস্থাপক) আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে কারখানায় ব্যবহার অনুপযোগী লুব অয়েল অনিয়ম করে বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ঠিকাদারের অভিযোগ, বিধি অনুযায়ী উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই কোটি টাকার লুব অয়েল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বিক্রয় কার্যক্রম সরকারি বিধি অনুসারেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কারখানা সূত্রে জানা যায়, রোববার কারখানা থেকে প্রায় ৩৭ হাজার ৮০০ লিটার ব্যবহার অনুপযোগী লুব অয়েল যা ১৮৯টি ড্রামে সংরক্ষিত ছিল, গেটপাসের মাধ্যমে তিনটি ট্রাকে করে বাইরে নেওয়ার সময় স্থানীয় ঠিকাদাররা তাতে বাধা দেন। পরে মালামাল পুনরায় কারখানার ভেতরে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযুক্ত মহাব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান খান জানান, ব্যবহার অনুপযোগী লুব অয়েল বিক্রির জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনেক আগেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ওই টেন্ডারে ঢাকা মিন ওয়েলস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ লাভ করে । স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই কাজ পাওয়ার জন্য সরকারের ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারাই এই কাজ পেয়ে থাকেন। তাদের ছাড়া কেউ এতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই লুব অয়েল কেনার কাজটি একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই করতে হয়, আর এবারও তা-ই করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় ঠিকাদার মেসার্স বিজনেস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন শামীম, মেসার্স ওসমান অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আবু ছাইদসহ ঠিকাদার হাসিবুর রহমান অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়াটি পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়নি এবং সব আগ্রহী ঠিকাদার সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগও পাননি।

তাদের দাবি, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী পুনরায় অনলাইন (ই-জিপি) অথবা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হোক, যাতে সব যোগ্য ঠিকাদার প্রতিযোগিতামূলকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

অন্যদিকে ঘোড়াশাল সারকারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ফখরুল আলম জানান, টেন্ডারটি সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বিক্রয় কার্যক্রমও নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন