মাদারীপুরে একটি শতবর্ষী বট বৃক্ষকে ‘শিরক’ আখ্যা দিয়ে কর্তনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশ জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপরাধ এই বট বৃক্ষটি কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইতোমধ্যে বৃক্ষটি দেখতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। গাছটি কর্তনের সাথে জড়িতরা গা ঢাকা দিয়েছে। তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
শিরখাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লি বটগাছটি কাটার বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। তবে লোকমুখে শুনেছি, অভিযুক্তরা দাবি করেছেন—এই বটগাছটিতে এসে মানুষ পূজা করে, মানত করে। অনেকে মনে করত গাছটির অলৌকিক ক্ষমতা আছে। এই বিষয়টিতে একশ্রেণির লোকজন মনে করেছে—এসব বিদআত, শিরিক। এই অভিযোগ নিয়ে তারা গাছটি কেটে ফেলেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এই গাছটি তো মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি। একশ্রেণির লোক এখানে মানত করে। এটি মেনে নিতে না পেরে পুরো গাছটিকে কেটে ফেলা হলো। এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে এজন্য সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, ‘আমি সকালেই আলম মীরের কান্দি গিয়ে বট গাছটিকে দেখে এসেছি। গাছটির ৯০ শতাংশই কেটে ফেলা হয়েছে। মাটির সাথে ১০ ফুট উচ্চতার দুটো মূলকাণ্ড তার ডালাপালাবিহীনভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বাকি সকল মূলকাণ্ড ও ডালাপাল কেটে ফেলা হয়েছে।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, এই বটগাছটি তো কারো কোনো ক্ষতি করেনি। এই গাছ আমাদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন দেয়। গাছে পাখিরা বাসা বেঁধে থাকে। ফল খেয়ে থাকে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, ‘শিরখাড়ায় যে বটগাছটি স্থানীয়রা কেটে ফেলেছে। আমরা সেখানে প্রশাসনের লোক পাঠিয়েছি। যারা অভিযুক্ত তারা এখন গা ঢাকা দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

