ফরিদপুরে সদরপুর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ পদে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও অভিযোগ উঠেছে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছেন আজিজুল ইসলাম নান্নু।
এরই মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পদ ভাগাতে অর্থ ব্যয়েরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নান্নুকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে।
সদরপুর যুবদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৭ বছর তারা রাজনৈতিক মামলা-মোকদ্দমা, হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির মধ্যে ছিলেন। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি। অথচ সেই সময় যারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে থেকে সুবিধা নিয়েছেন, এখন তাদের অনেকেই বিএনপির পদ-পদবি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নান্নুর ঘনিষ্ঠতা ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে।
ইতিপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিক্সন চৌধুরী, সদরপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান, সদরপুর সদরের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর এবং আ.লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে নান্নুর বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ছবি ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলোচনা সমালোচনা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা যখন মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়ে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করেছেন, তখন নান্নুর মতো কথিত সুবিধাভোগীরা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নান্নুর রাজনৈতিক তৎপরতাতেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তিনি এখন বিএনপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারে আজিজুল ইসলাম নান্নু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কখনো আওয়ামী লীগ করি নাই। আওয়ামী রাজনীতির সাথে কখনো সম্পৃক্তও ছিলাম না। সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আমার পারিবারিক আত্মীয়। স্থানীয় নির্বাচনে কাজী জাফরের সমর্থক ছিলাম। কাজী জাফর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেই বহরে একবার মাত্র তার বাড়িতে গিয়েছি। তার দল করা বা তার থেকে কখনো কোন রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করি নাই। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কলেজ জীবনে ছাত্রদলের সংসদে কার্যকরী সদস্য ছিলাম। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য যারা উঠেপড়ে লেগেছে তাদের পরিবারের অনেকেই নিক্সন চৌধুরীর সাথে ভোটের মাঠে কাজ করেছে তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। আমার পরিবার সব সময়ই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।
উপজেলা যুবদলের আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সোহেল আমিন মোল্যা বলেন, ৫ আগস্টের আগে যাদের বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় নাই, ফ্যাসিস্টদের দোসরদের সঙ্গে ঘুরতো। আরাম আয়েশে জীবনযাপন করতো এবং পদহীন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল তাদের কেউ কেউ এখন যুবদলের পদপদবী পেতে মরিয়া। আমি চাই দলের দুর্দিনে দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে সেইসব ত্যাগীদের মূল্যায়ন হোক।
তিনি আরো বলেন, দলের পদ বাগাতে অনেক হাইব্রিড নেতা এখন অঢেল অর্থ ব্যয় করছেন। কিন্ত দলের দুর্দিনে তাদের কাউকেই কোন কর্মসূচিতে পাওয়া যায় নাই।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

