ড. এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

দেশের এমন কোনো ঘর থাকবে না, যেখানে জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছাবে না

প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

দেশের এমন কোনো ঘর থাকবে না, যেখানে জামায়াতের দাওয়াত পৌঁছাবে না

বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, দেশের এমন কোনো ঘর থাকবে না, যেখানে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পৌঁছাবে না। দাওয়াত, নামাজ ও জিহাদের মাধ্যমে ময়দানে কাজ করতে হবে। আল্লাহ মানুষকে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। সেই দায়িত্ব পালনে আমাদের সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

শনিবার (৬ জুন) শরীয়তপুর পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, শরীয়তপুর জেলা শাখা।

বিজ্ঞাপন

ড. আযাদ বলেন, ইসলামের দাওয়াত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া শুধু একটি সাংগঠনিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একজন মুমিনের নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে। মানুষের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই ইসলামের সৌন্দর্য ও কল্যাণময় দিকগুলো তুলে ধরা সম্ভব।

শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রব হাশেমী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ বদরুদ্দিন, ফরিদপুর অঞ্চল টিম সদস্য অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন এবং মাওলানা আব্দুস সুবহান খান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মোশাররফ হোসেন মাসুদ এবং জেলা নায়েবে আমীর কেএম মকবুল হোসাইন।

জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সংগঠনের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে সংগঠনের আদর্শিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, দাওয়াতি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আত্মশুদ্ধি, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সংগঠনের সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দিনব্যাপী এ শিক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সাংগঠনিক চেতনা জাগ্রত করা, আদর্শিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন