আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অভিযোগে বদলে গেল গাইড ওয়াল নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর

অভিযোগে বদলে গেল গাইড ওয়াল নির্মাণ

অভিযোগ ওঠায় রাতারাতি বদলে গেল গাইড ওয়াল নির্মাণ। এর আগে মাদারীপুরের শিবচরে রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণে ইটের গাঁথুনির নিচে কলাগাছ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর। বিষয়টি নির্বাচনকালীন ঠিকাদার কর্তৃক হওয়ায় দুঃখও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন ভুল যেন আগামীতে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ কর্তৃপক্ষের।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, জেলার শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণাধীন সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণে নিচের অংশে কলাগাছের বেঁধে দেওয়া হয়। এমন অনিয়ম স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে শিবচর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর সরেজমিনে গিয়ে রাতারাতিই সেসব কলাগাছ উপড়ে ফেলে নতুন করেন গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন।

শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণকাজ শুরু করে মের্সাস মনির কনস্ট্রাসন, যেখানে ব্যয় ধরা হয় ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ১ হাজার ৫৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বেশ কিছু জায়গায় গাইড ওয়াল ধরা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি ছিল। কয়েক দিন আগে ইট ও পিলার এনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের এক পাশে শুরু করে গাইড ওয়ালের কাজ। যার পাঁচ মিটার স্থানে গাইড ওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করেন ঠিকাদার। পরে সেটি তুলে নতুন করে কাজ করা হয়। কাজটি এ বছরের মার্চ মাসের ৩০ তারিখে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, রাস্তাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। তবে কিছু জায়গায় কলাগাছ দিলে তার প্রতিবাদ করি। পরে প্রকৌশলীরা এসে সেসব গাছ উঠিয়ে নতুন করে গাইড ওয়াল করা হয়েছে। এই সড়ক ব্যবহার করে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করি।

আরেক স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদার কাজটি ভুলে করলেও এলজিইডির লোকজন দেখে দ্রুতই সমাধান করেছে। তবে প্রকৌশলীরা আরো যত্নবান হলে এমন ভুলও করতে পারত না। তবে তাদের ধন্যবাদ দিই যে, তারা দ্রুতই সমাধান করে ফেলছে। নির্বাচনের সময়ে তাড়াতাড়ি কাজ করায় এমনটা হয়েছে।

দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আলমগীর হোসেন বলেন, আমাকে রাজমিস্ত্রি কিছু জানায়নি। যে মিস্ত্রি কাজ করে, তাকে বলেছি এমন কাজ কেন করা হলো? আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। সে হয়তো ভুলে করেছে। তবে শিডিউল অনুসারে কাজটি করা হয়েছে। এমন ভুল আর হবেও না। নির্বাচনের সময় রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য তাড়াহুড়া করে এমনটা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কির্ত্তনীয়া বলেন, নির্বাচনে অনেক দায়িত্ব থাকায় দুয়েক দিন কাজের স্থানে যেতে পারেননি কর্মকর্তারা। দেখার সঙ্গে সঙ্গে কাজটি পুনরায় করা হয়েছে। বর্তমানে কাজটি প্রায় ৯০ শতাংশ শেষের দিকে। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের বিয়ষটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা কাজের বিষয় শতভাগ স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন