নরসিংদীর শিবপুরে চাঁদা না পেয়ে নবী হোসেন নামের এক ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীকে গুলি ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের উত্তর কারারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নবী হোসেন উত্তর কারারচর গ্রামের ফজর রহমানের ছেলে। তিনি পিকআপভ্যানে পণ্য পরিবহনের ব্যবসা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে বুধবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী সানিসহ ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী নবী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার ছোট ভাই মনির হোসেনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় মনিরকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা নবী হোসেনের ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে ।
এ সময় তাকে বাঁচাতে এলে নবী হোসেনের স্ত্রী তাছলিমা বেগম ও মেয়ে সোহাগী আক্তারও তাদের হামলায় আহত হন। আশপাশের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নবী হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
নবী হোসেনের মেয়ে সোহাগী আক্তার জানান, সানি, নয়ন ও রব্বির নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে তার চাচা মনিরকে খুঁজতে থাকে। তাঁকে না পেয়ে তার বাবার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে তারা। নবী হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও পেটে গুলি করে । এ সময় তারা মা ও মেয়ে এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবী হোসেনের শরীর থেকে একটি গুলি বের করেছেন এবং তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
এ বিষয়ে শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। দুই পক্ষই বিশৃঙ্খল প্রকৃতির মানুষ। তারা মারামারি করে ঢাকায় ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে আমরা সংবাদ পেয়েছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

