গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নাশকতার মামলায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের না ধরে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতারা।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় গত শুক্রবার কোটালীপাড়া থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। এতে গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কের কোটালীপাড়ার অবদারহাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়। আসামির তালিকায় ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ এবং দেড় হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের দেখানো হয়।
রোববার বিকালে উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কোটালীপাড়ার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম মহিউদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সাধারণ জনতা, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের ধরে নিয়ে মামলার আসামি দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের কোনো পদধারী নেতাকর্মীকে আসামি বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আর কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করলে আমরা সাধারণ মানুষকে নিয়ে প্রতিবাদ জানাব।’
অন্যদিকে আগের দিন শনিবার রাতে কোটালীপাড়া থানা চত্বরে নিরীহ মানুষকে গণগ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রতিবাদ জানায় এনসিপির কোটালীপাড়া শাখা। দলটির জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী রুম্মান হোসেন রিমন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় আসামি হিসেবে যে ১৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই নিরীহ। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজদ বলেন, ‘নাশকতার সঙ্গে জড়িতদেরই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ আটক করে ৩০ জনকে জেলহাজাতে পাঠানো হয়েছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আটক হলে তদন্ত করে তাদের বিষয়টি দেখব।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

