আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পদ্মায় বাসডুবি

ছেলেমেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন চুরমার সোমার

স্টাফ রিপোর্টার (ঢাকা উত্তর)

ছেলেমেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন চুরমার সোমার

অধরাই রয়ে গেল আয়েশা আক্তার সোমার স্বপ্ন। ছেলে ও মেয়েকে ডাক্তার বানিয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু এক মুহূর্তেই তার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। গত বুধবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে আট মাসের শিশুসন্তানসহ তার অকাল মৃত্যু হয়। পরে মধ্যরাতে বাস উদ্ধারের পর বাচ্চাটিকে মায়ের কোলেই পেয়েছে উদ্ধারকারী ডুবুরি দল।

সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ও সিআরপি ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানের ১৭তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন সোমা।

বিজ্ঞাপন

এ প্রতিষ্ঠানে তিনি সিনিয়র অকুপেশনাল থেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বামী সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট নুরুজ্জামানসহ শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার খন্দকবাড়িয়া গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ফেরিঘাটে বাস পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হয়ে কোলের শিশুসহ মর্মান্তিকভাবে মারা যান সোমা।

তিনি আরো জানান, সোমার মৃত্যুর খবর পেয়ে সিআরপির একটি প্রতিনিধিদল অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ গ্রহণ করে দাফন সম্পন্ন করে। সন্তান আরশান ও সোমাকে নানাবাড়ি সংলগ্ন গোকুলনগর ঈদগাহ মাঠ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সোমার স্বামী নুরুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ঘটনার আগ মুহূর্তে বড় সন্তান নওরিনকে নদী দেখাতে বাস থেকে কোলে করে তিনি নিচে নামেন। এ সময় স্ত্রী সোমা আট মাস বয়সি ছেলে আরশানকে কোলে নিয়ে বাসে বসেছিলেন।

তিনি নেমে যাওয়ার পর মুহূর্তেই থেমে থাকা বাসটি চালু করার পর চালক কিছুতেই থামাতে পারছিলেন না। চোখের সামনেই ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে বাসটি নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় বেশ কয়েকজন বের হয়ে এলেও আমার কলিজার টুকরো সন্তানসহ প্রিয়তমা স্ত্রী বাসের মধ্যেই মারা যান। মধ্যরাতে বাস উদ্ধারের পর তাদের লাশ পাই।

সোমার বাবা নাসির উদ্দিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। সোমা তার নানাবাড়ি সাভারের গোকুলনগর গ্রামে বেড়ে ওঠেন। এখানকার স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া শেষে সিআরপিতে বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশন্স ইনস্টিটিউটে অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগে লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে সিআরপিতেই অকুপেশনাল থেরাপিস্ট হিসেবে চাকরি নেন তিনি। স্বামী-সন্তানসহ বসবাস করতেন সাভারের নয়ারহাট সংলগ্ন পালপাড়ায়।

সোমার বাবা নাসির উদ্দিন জানান, খুবই মেধাবী ছিল সোমা। তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু ডাক্তারিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চান্স না হওয়ায় অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগে লেখাপড়া করে। তার স্বপ্ন ছিল ছেলেমেয়েকে ডাক্তারি পড়াবে। নিজে ডাক্তার হতে না পারলেও সন্তানদের ডাক্তারি পড়িয়ে মানুষের সেবায় নিযুক্ত করবে। বাস দুর্ঘটনায় শিশুসন্তানসহ তার মৃত্যুতে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন