মাদারীপুরের রাজৈরে ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষিপ্ত গ্রামবাসী ও স্বজনরা তার দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের বসতবাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আগুনে একটি রান্নাঘর, ধান রাখার গোলাঘর এবং চার রুম বিশিষ্ট একটি বসত ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে যায়। খবর পেয়ে রাজৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার রাতে হালিম খানকে তার স্ত্রী রেশমা বেগমের বাবার বাড়িতে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ‘চিকিৎসার কথা বলে’ রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দ্বিতীয় স্ত্রী রেশমা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। দ্বিতীয় শ্বশুর সোমেদ চৌকিদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই সোমেদ চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হালিম খান দ্বিতীয় বিয়ে করেন রেশমা বেগমকে। বিয়ের পর হালিম তার শ্বশুরকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা দেন এবং বিদেশ থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা পাঠান। কিন্তু সেই মোটরসাইকেল কেনা হয় শ্যালক সবুজ চৌকিদারের নামে। দেশে ফেরার পর হালিম এসব বিষয়ে জবাব চাইলে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এরই জেরে সোমবার রাতে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
হালিমের লাশ বর্তমানে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পুলিশ বলেছে, হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকার পরিস্থিতি যাতে অস্থিতিশীল না হয়, সে জন্য পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

