চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ‘হটস্পট’ তালমা-পুখুরিয়া স্টেশন

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ‘হটস্পট’ তালমা-পুখুরিয়া স্টেশন

ট্রেন যাত্রায় জানালার পাশের সিটে বসে ভ্রমণ চিরাচরিত বিষয় হলেও নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবার বিষয়ে অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গায় ট্রেন ভ্রমণের যাত্রীদের। চলন্ত ট্রেন যাত্রীদের লক্ষ্য করে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে পাথর নিক্ষেপকারীদের ঔদ্ধত্য।

কখনও ভয়াবহ অবস্থা কখনও শিথিলতায় যাত্রীদের টার্গেট করে ভাঙ্গা ফরিদপুর ট্রেন রুটে অহরহ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া ও পার্শ্ববর্তী নগরকান্দার তালমা ট্রেন স্টেশন দুটি পাথর নিক্ষেপের হটস্পট হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও যাত্রীদের তথ্য মতে, ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেললাইন পথের যাত্রীদের জানালা টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ঘটনায় পুখুরিয়া ও তালমা দুটি স্টেশন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীরা চলাচল করলেও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ না থাকায় দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, আশির দশকে পুখুরিয়া টু ফরিদপুরের ট্রেনলাইন চালু থাকাকালীন সময়ে দুষ্কৃতকারীরা ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা দেখা গেছে।

গত দু’বছর আগে ফরিদপুর টু ভাঙ্গা ট্রেনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরচালু হলেও অরক্ষিত নিরাপত্তায় যাত্রীরা পাথর নিক্ষেপকারীদের ভয়ে ভয়ে ট্রেনে চলাচল করছে।

ভাঙ্গা রেলষ্টেশন ও রেলজংশন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীনদের তথ্য মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক আওতাধীন রাজবাড়ী-খুলনা-বেনাপোল ও রাজশাহীগামী নকশি কাঁথা কমিউনিটি, সুন্দরবন, মধুমতী আন্তঃনগর মেইল ট্রেন ও লোকাল ট্রেনসহ মোট ৬ জোড়া ট্রেন পদ্মাসেতু হয়ে মাওয়া ও ভাঙ্গা খুলনা বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল করে। ভাঙ্গা-ফরিদপুর লোকাল ও আন্তসিটি ট্রেন চলাচলের পথে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ট্রেন স্টেশন ও পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার তালমা স্টেশন এলাকাসহ ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে দিনে ও রাতের আঁধারে দুষ্কৃতকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে।

বিশেষ করে জানালার পাশে বসে থাকা যাত্রীদের লক্ষ্য করে দুষ্কৃতকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে থাকায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে ট্রেন যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ। পাথর নিক্ষেপ ঘটনা কখনও কম কখনও আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাহীন হয়ে চলছে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনা।

ইকোনমিক জোনে পরিণত করার লক্ষ্য ভাঙ্গা উপজেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সংযোগ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় কমপক্ষে শতাধিক নারী শিশু ও পুরুষ দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপে আহত হন। বড় ধরনের কোন ঘটনা সৃষ্টি না হলেও রহস্যজনক কারণ পাথর নিক্ষেপের ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা না গেলেও স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধিতে সড়কপথের বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রী কম হওয়ার সুবাদে কোন অদৃশ্যের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন। তবে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি সাপেক্ষ অনেক কিছু বেড়িয়ে আসতে পারে বলে অভিমত সচেতন ট্রেন যাত্রীদের।

তাদের অভিমত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় পুলিশ পাথর নিক্ষেপকারী কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি বিধায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। তবে এবিষয়ে পুলিশের দাবি বিভিন্ন সময় ট্রেন যাত্রীদের টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনা লোকমুখে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেখা গেলেও যাত্রী মহলের কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে দেখা যায়নি। কারণ হিসেবে পুলিশ আরও জানায় যাত্রীরা বেশির ভাগ দূরের হওয়ায় অনেকে আইনের ঝামেলা এড়িয়ে চলেন।

সাধারণ যাত্রীদের মতে, পদ্মাসেতু হয়ে ভাঙ্গা মাওয়া ফরিদপুর ও রাজবাড়ি খুলনা বেনাপোল এবং রাজশাহী প্রতিদিন শত শত যাত্রী সময় ও অর্থ সাশ্রয় করতে ঘরে নিরাপদে ফেরার লক্ষ্য ট্রেনে ভ্রমণ করায় দিন দিন ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে ট্রেন যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাত্রা আরও ভয়ংকর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মূলত ট্রেনের জানালা খোলা যাত্রী শুধু নয় দুর্বৃত্তরা জানালা টার্গেট করে পাথর নিক্ষেপ ছাড়াও ট্রেনের বগির গেটের মুখে বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের টার্গেট করেও পাথর নিক্ষেপ ঘটনায় মেতেছে।

কুবৃত্তধারী চেতনার দুর্বৃত্তকারীরা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে ভয়ের সৃষ্টি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ায় ভীতিকর পরিস্থিতিতে ট্রেনের যাত্রীদের চলাচল করার পাশাপাশি যাত্রী হ্রাসে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে আসছে। অচিরেই রেল পুলিশ থানা স্টেশন স্থাপন করে

পাথর নিক্ষেপ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের মধ্যে দিয়ে যাত্রীদের ভয় কাটিয়ে ওঠার সুব্যবস্থা করা না হল ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা জ্যামিতিক হারে নয় গাণিতিক হারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে বলে অভিমত ট্রেন যাত্রী মহলের।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহাদাৎ হোসেন জানান, গত কয়েকদিন আগে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গায় রাতের বেলায় ট্রেনে তিনি বাড়িতে ফিরতে ছিলেন। হঠাৎ করে পাথর নিক্ষেপকারীদের একটা পাথর চলন্ত ট্রেনের জানালা পাশের একজন যাত্রীর শরীরে লাগে। এতে ভীষণ যন্ত্রণায় তিনি কাতরাতে থাকেন। পরে ট্রেনের ভিতরের একজন হকারের কাছে থাকা মলম ব্যবহারে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ভাঙ্গা জংশন স্টেশন ম্যানেজার জিল্লুর রহমান জানান, ভাঙ্গা-ফরিদপুর -রাজবাড়ী- খুলনা ও বেনাপোল লাইনে দৈনিক ৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু শুধু মাত্র ফরিদ পুর লাইনের কিছু অংশে বিভিন্ন সময় চলন্ত ট্রেনের দিকে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনার সৃষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া ও তালমা এদুটো স্টেশনে ট্রেন চলাচলের পথে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে বলে জানান। বিভিন্ন সময়ে পাথর নিক্ষেপ করার ঘটনায় প্রায় শতাধিক ট্রেনের যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানান।

ভাঙ্গা থানা অফিসার ইন চার্জ (ওসি তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান, রেল সংশ্লিষ্ট যেকোনো ঘটনা সাধারণত রেল স্টেশন পুলিশ সদস্যরা কাজ করে থাকেন। ভাঙ্গায় জিআরপি পুলিশ স্টেশন না থাকলেও প্রায় এক বছর ভাঙ্গায় চাকুরি করার সুবাদে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঘটনা নিয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে তার জানা নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন