নদী কেড়ে নিয়েছিল বাড়িভিটা, এখন কিডনি বিকল হয়ে কেড়ে নিচ্ছে বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও বাজারের পরিচিত মাছ বিক্রেতা নাসির খালাসি (৪০) এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায়, বেঁচে থাকতে প্রতি সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাকে। শুধু ডায়ালাইসিস আর যাতায়াতেই সপ্তাহে খরচ প্রায় সাত হাজার টাকা। এর বাইরে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার ওষুধ। অথচ অসুস্থ শরীরে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন মাছ বিক্রি করার সুযোগ মিলছে তার। ঘরে অপেক্ষা করছে চার ছোট সন্তান। সবার বড় সন্তানের বয়স মাত্র ১০ বছর।
নাসিরের জীবনটা সংগ্রামের গল্প। ২০ বছর আগে নদীভাঙনে গারুরগাঁও গ্রামের বাড়িভিটা ও ফসলি জমি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়। বাবা সেকান্দর খালাসীও মারা গেছেন বহু আগে। বাধ্য হয়ে পাশের কুকরাদি গ্রামে আশ্রয় নিয়ে মাছ ব্যবসাকেই বেছে নেন জীবিকা হিসেবে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচগাঁও বাজারে মাছ বেচে চার সন্তান নিয়ে কষ্টেসৃষ্টে চলছিল সংসার। কিন্তু কিডনি বিকল হওয়ার পর সে পথও বন্ধ হয়ে আসছে।
আগে ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে ডায়ালাইসিস করতেন। কিন্তু সেই হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, এখন মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়ার একটি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। যেখানে খরচ অনেক বেশি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাসির বলেন, আগে নিজে কামাই করে চিকিৎসা চালাইতাম। এখন শরীরে শক্তি নেই। পোলা-মাইয়াগোর মুখের দিকে তাকাইয়া বাঁচতে চাই। পাঁচগাঁও বাজারের অপর মাছ ব্যবসায়ী মিন্টু দাস জানান, নাসির আগে প্রতিদিন বাজারে আসত, এখন সপ্তাহে দুই দিন আসে। হাসাইল বানারী ইউপি সদস্য বাবু হালদার বলেন, নাসিরের অন্যান্য ভাইদের জমিজমা থাকলেও তার কিছুই নেই—আগে থেকেই অসহায়, এখন একেবারে নিঃস্ব।
পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বেপারী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো তহবিল নেই। তবে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সহায়তার চেষ্টা করব।
নাসির জানান, সরকারিভাবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা কিছুটা সহায়তা করলেও, তা ক্রমেই কমে আসছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও থেমে নেই তিনি—চার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনো দুই দিন মাছ বিক্রি করে চলেন।
নাসির খালাসির পরিবার সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। সহায়তা পাঠানো যাবে বিকাশ বা নগদে—০১৭৩১-৮০৭২১৬ নম্বরে (নাসির খালাসির ব্যক্তিগত নম্বর)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

